খাদ্যসংকটের কারণগুলি কী কী?

খাদ্যসংকটের কারণ

① জনসংখ্যা বৃদ্ধি: বিশ্বের জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান

জনসংখ্যার চাহিদা অনুসারে খাদ্য উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় বিশ্বে খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট অনুসারে 2014-16 সালে প্রায় 795 মিলিয়ন মানুষ খাদ্য সংকটের শিকার হন।

② জলবায়ু পরিবর্তন: পরিবেশদূষণ, বনধ্বংস প্রভৃতি কারণে পৃথিবীব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তনে অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টির ফলে মরুভূমিকরণ ঘটেছে যার ফলস্বরূপ ফসলের উৎপাদনমাত্রা হ্রাস পেয়েছে, নতুন ক্ষতিকর পেস্টের আগমন ঘটেছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন কমছে।

③ পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি: প্রতি ব্যারেল পেট্রোলের দাম বৃদ্ধিতে ফসল ও বীজের পরিবহণ মূল্য বাড়ে, ফলে খাদ্যের বাজার দর বাড়ে ও খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়।

④ মাংস ও দুগ্ধজাত খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি: চিন, ভারত প্রভৃতি দেশগুলির

অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মাংস, দুধ প্রভৃতি পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

⑤ বায়োফুয়েলের চাহিদা বৃদ্ধি: জীবাশ্ম জ্বালানি যাতে নিঃশেষিত না হয় সেই জন্য জৈব জ্বালানি (ইথানল, বায়োডিজেল ইত্যাদি) উৎপাদনকারী ফসলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে, এর ফলে শস্য উৎপাদনকারী ফসল চাষের পরিমাণ কমেছে, যা খাদ্যসংকট বাড়াচ্ছে।

⑥ ভূমিক্ষয়: বন্যা, খরা, অরণ্যনিধন প্রভৃতির ফলে ভূমিক্ষয় হয়। যার ফলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায় এবং ফসল উৎপাদন কমে খাদ্যসংকট দেখা দেয়।

⑦ উন্নত দেশের চাহিদা বৃদ্ধি: অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নশীল

দেশগুলিতে অধিক পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়।

⑧ অনুন্নত সংরক্ষণ: খাদ্য উৎপাদনের পর তার যথাযথ সংরক্ষণ না হলে ফসল বিনষ্ট হয়ে যায়। ফলে খাদ্যসংকট বৃদ্ধি পায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ