Posts

Showing posts with the label জীবনবিজ্ঞান 10

সংরক্ষিত বন ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ সম্পর্কে বর্ণনা দাও।

সংরক্ষিত বনাঞ্চল (Reserve Forest) : রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন যে অরণ্যে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ, কিন্তু গবেষণার অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশ করা যায়, তাকে সংরক্ষিত বন বলে। কোনো কারণে বনাঞ্চলে যদি প্রাণীর সংখ্যা কমে যায়, তাহলে রাজ্য সরকার সেই বনাঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশ, বনজ সম্পদ আহরণ, চাষ আবাদ, পশু চারণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে দেয়।  ■ বৈশিষ্ট্য: (i) কেন্দ্রীয় সরকারের বনদপ্তর আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। Indian Forest Act অনুযায়ী প্রাণী শিকার ও গাছ কাটা নিষিদ্ধ। (ii) সমগ্র এলাকায় বনরক্ষী দিবারাত্র প্রহরারত থাকে।  ■ উদাহরণ: পশ্চিমবঙ্গের বৈকুণ্ঠপুর, অসমের কাজিরাঙা, গুজরাটের গির। বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve): UNESCO-র Man and Biosphere Reserve কর্মসূচির অন্তর্গত যে শলজ ও জলজ অঞ্চলে গোটা বাস্তুতন্ত্র ও তার সম্পূর্ণ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হয়, তাকে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বলে। এই অঞ্চলে জীববৈচিত্রত্র্য সংরক্ষণ ছাড়াও সেই অঞ্চলে আদিবাসী ও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, জীবিকা ও সংস্কৃতিরও সংরক্ষণ করা হয়।  ■ বৈশিষ্ট্য: (১)এই অঞ্চলে জীবকূল স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশেই বৃদ্ধি পাবে এবং প্রজনন করবে। মা

জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য সম্পর্কে আলোচনা করো।

জাতীয় উদ্যান (National Park): প্রাকৃতিক-সৌন্দর্যময় যেসব স্থানে সমস্তরকম গাছপালা ও বন্য জীবজন্তুরা নিজস্ব পরিবেশে জাতীয় সংবিধান প্রণীত আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত হয়, তাদের জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্ক বলে। বৈশিষ্ট্য: (i) এটি ভারত সরকারের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। (ii) শিকার সম্পূর্ণ নিষেধ, আগ্নেয়াস্ত্রসহ শিকারির প্রবেশ নিষেধ, তবে পর্যটক ভিতরে যেতে পারে। (iii) প্রাকৃতিক-ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক বস্তু, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ স্থায়ীভাবে আইন মারফত করা হয়ে থাকে। (iv) সমগ্র বাস্তুতন্ত্র রক্ষিত হয়ে থাকে। (v) এই বনভূমিতে প্রাণীহত্যা, গাছকাটা, মাছধরা, বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ। (vi) এটি সবচেয়ে বড়ো পরিসরের উদ্যান। উদাহরণ: পশ্চিমবঙ্গের গোরুমারা, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, উত্তরাখণ্ডের করবেট, মধ্যপ্রদেশের কানহা এবং শিবপুরি।  অভয়ারণ্য (Sanctuary): যে সংরক্ষিত অঞ্চলে গাছপালার সঙ্গে বিশেষ কোনো বন্য প্রজাতির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা আছে, তাকে অভয়ারণ্য বলে। অভয়ারণ্য বনাঞ্চল স্থাপনের উদ্দেশ্য হল- (i) চরম বিপন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ গুলিকে শিকারী এবং মানুষের হাত থেকে

এক্স-সিটু সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

এক্স সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ Conservation): উদ্ভিদ ও প্রাণীর নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে তাদের সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে এক্স সিটু সংরক্ষণ বলে। যেমন- চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ক্রায়োসংরক্ষণ। (a) চিড়িয়াখানা (Zoological garden): পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার চিড়িয়াখানা, দার্জিলিং-এর চিড়িয়াখানা উল্লেখযোগ্য চিড়িয়াখানা। ■ বৈশিষ্ট্য: (i) চিড়িয়াখানায় দেশ-বিদেশের প্রাণী প্রজাতি সংরক্ষিত হয়। (ii) প্রাণীরা এখানে স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না, শিকার করতে পারে না। এদের খাঁচার মধ্যে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ■ সংরক্ষিত প্রাণী: বাঘ, সিংহ, ভালুক, জিরাফ, জেব্রা, গন্ডার, বানর, হরিণ, নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ইত্যাদি। (b) বোটানিক্যাল গার্ডেন (Botanical Garden): পশ্চিমবঙ্গের শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন বিখ্যাত। এ ছাড়া দার্জিলিং-এর বোটানিক্যাল গার্ডেনও প্রসিদ্ধ। ■ বৈশিষ্ট্য: (i) দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষিত। (ii) উদ্ভিদগুলি স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠেছে, বংশবিস্তার করতে পারে। তবে এদের পরিচর্যা করার ব্যবস্থা আছে। ■ উদাহরণ: শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনের সবচেয়ে দর্শনীয় উদ্ভিদ হল বট গাছ (Ficus beng