Posts

Showing posts from February, 2024

বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি

বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তির ধারণা:  বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ব্যবহৃত অপ্রচলিত শক্তিগুলির মধ্যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এই শক্তিটিকে 'Waste Energy' বা 'wte' বলা হয়ে থাকে। এই শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামাল হল-পৌর আবর্জনা, কৃষিজমি থেকে প্রাপ্ত খড়, তুষ, আখের ছিবড়ে প্রভৃতি। বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি উৎপাদন পদ্ধতি:  (a) গ্যাসীয়করণ: এক্ষেত্রে শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে দাহ্য হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদিত হয়। (b) জৈব পদার্থের দহন প্রক্রিয়া: কঠিন পৌর বর্জ্য (Municipal Solid Waste (MSW)]-কে পুড়িয়ে সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড উৎপাদন করে বিদ্যুৎ সৃষ্টি করা হয়। (c) পাইরোলাইসিস: শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে আলকাতরা জাতীয় পদার্থ উৎপাদন করা হয়। (d) অবাত দহনঃ এই পদ্ধতির সাহায্যে মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হয়। (e) পচন পদ্ধতিঃ বর্জ্য পদার্থ পচনের ফলে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইথানলসহ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।  বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ: OECD (Organisation of Economically Co-operative Count

প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ

প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা (Needs for Conservation of Natural Resources):  মানুষের অবিবেচনামূলক কাজকর্মের ফলে গচ্ছিত সম্পদের ভান্ডার ক্রমাগত নিঃশেষিত হয়ে পড়ছে। দ্রুত হারে সম্পদ ধ্বংসের ফলে ক্রমশ মানব সভ্যতার অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজনীয়তা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও চাহিদা পরিপূরণের উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের অন্যতম প্রয়োজনীয়তাগুলি হল-  (i) ভবিষ্যৎ-এর জন্য সম্পদ সংরক্ষণ : ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পরিপূরণের জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষত গচ্ছিত সম্পদ সংরক্ষণ করা দরকার। (ii)  বর্তমানের চাহিদা পূরণ : গচ্ছিত সম্পদগুলির ভাণ্ডার ক্রমশ নিঃশেষিত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণের জন্য উক্ত সম্পদগুলির সংরক্ষণ প্রয়োজন।  (iii) পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় : নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের ফলে জীবজগতের অস্তিত্ব তথা পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তাই পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।  (iv) পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত

সহজাত ধারণাকে লক কীভাবে খণ্ডন করেছেন?

লক কর্তৃক সহজাত ধারণা তত্ত্বের খণ্ডন প্রখ্যাত বুদ্ধিবাদী দার্শনিক রেঁনে দেকার্ত তাঁর জ্ঞানতত্ত্বের ক্ষেত্রে সহজাত ধারণার বিষয়টিকে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আমাদের মনে এমন কতকগুলি ধারণা বিদ্যমান, যেগুলিকে সহজাত বা আন্তর ধারণা (innate idea) রূপে উল্লেখ করা হয়। তাঁর মতে, সহজাত ধারণাগুলি সমস্তপ্রকার সত্যজ্ঞানের ভিত্তিরূপে গণ্য। এগুলি স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও স্বতঃসিদ্ধরূপে স্বীকৃত। ঈশ্বরের ধারণা, নিত্যতার ধারণা, অসীমের ধারণা, পূর্ণতার ধারণা এবং কার্যকারণের ধারণা প্রভৃতি হল সহজাত ধারণা। এই সমস্ত ধারণা সত্যজ্ঞানের মৌল ভিত্তিরূপে গণ্য এবং সেকারণেই এগুলি জ্ঞানতত্ত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও পড়ুন -  সহজাত ধারণা কী? সহজাত ধারণার বিরুদ্ধে লকের যুক্তি:  প্রখ্যাত অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক জন লক এই সমস্ত সহজাত ধারণাকে অস্বীকার করেছেন। তিনি দেকার্তের আন্তর ধারণার কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, আন্তর বা সহজাত ধারণা বলে কোনো কিছুই নেই। সহজাত ধারণার বিরুদ্ধে তাঁর যুক্তিগুলি হল: [1] অভিজ্ঞতা-পূর্ব সহজাত ধারণার অস্তিত্বহীনতা: দার্শনিক লক তাঁর জ্ঞানতত্ত্বে উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের সমস্তপ্রকার

সহজাত ধারণা কী?

সহজাত ধারণা বিখ্যাত বুদ্ধিবাদী ফরাসি দার্শনিক দেকার্ত যে তিনপ্রকার ধারণার কথা বলেছেন তার মধ্যে সহজাত ধারণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেকার্তের মতে, যা আগে থেকেই মানুষের মনের মধ্যে নিহিত থাকে তা-ই হল সহজাত ধারণা। এগুলি খুবই স্পষ্ট ও স্বতঃসিদ্ধ। জন্মের সময় থেকেই আমাদের মনে এই সহজাত ধারণাগুলি বর্তমান থাকে। এগুলি হল-নিত্যতা, পূর্ণতা, অসীমতা ইত্যাদি। সহজাত ধারণার অস্তিত্ব প্রমাণে বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ বেশ কয়েকটি যুক্তি দেখিয়েছেন। যেমন-সহজাত ধারণা পূর্ব থেকেই আমাদের মনের মধ্যে থাকায় এগুলিকে আমরা বহু চেষ্টা করেও অভিজ্ঞতা বা ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষণের দ্বারা অর্জন করতে পারি না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় অসীমতার ধারণা কখনোই অভিজ্ঞতার দ্বারা অর্জিত বা গঠিত হয় না, এগুলি বুদ্ধির মাধ্যমেই অনভূত হয়। আবার কতগুলি ধারণা আছে যেগুলি ছাড়া জ্ঞানকে ব্যাখ্যা করা যায় না। যেমন-দেশ-কালের ধারণা বা কার্যকারণ সম্পর্কের ধারণা ইত্যাদি। এই সবই হল সহজাত ধারণা, অভিজ্ঞতালব্ধ নয়। বুদ্ধিবাদীদের মতে, এমন কিছু জ্ঞান আছে যেগুলিকে কোনো ক্ষেত্রেই সন্দেহ করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, 'দুই ও দুইয়ের যোগফল হল চার'-এই জ্ঞান সবসময়

জ্ঞানের উৎস সম্পর্কে বার্কলের অভিমত কী?

জ্ঞানের উৎস সম্পর্কে বার্কলের অভিমত প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক জর্জ বার্কলে একজন অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক। স্বাভাবিকভাবেই তিনি অভিজ্ঞতা তথা ইন্দ্রিয় সংবেদনকে জ্ঞানের মৌল উৎসরূপে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আমাদের সমস্তপ্রকার জ্ঞান নিঃসৃত হয় অভিজ্ঞতার হাত ধরে। অভিজ্ঞতাকেই তিনি জ্ঞানের মূল মাপকাঠিরূপে স্বীকার করেন। জন লকের পরই অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিকরূপে প্রসিদ্ধ হলেন জর্জ বার্কলে। অস্তিত্ব প্রত্যক্ষনির্ভর তত্ত্ব:  অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানের মৌল উৎসরূপে স্বীকার করে বার্কলে যে বিখ্যাত তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠা করেন, তা হল-অস্তিত্ব প্রত্যক্ষনির্ভর (Esse-est-Percipi)। অর্থাৎ, কোনো বস্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে জ্ঞাতার ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষের ওপর। তাঁর মতে, জ্ঞাতার ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষের মাধ্যমে যা পাওয়া যায়, একমাত্র সেই বিষয়ই সত্য এবং তারই অস্তিত্ব আছে। আর যা জ্ঞাতার ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষের বাইরে, তার কোনো প্রকৃত সত্তা বা বাস্তব অস্তিত্ব নেই। এভাবেই অস্তিত্ব প্রত্যক্ষনির্ভর তত্ত্বের মাধ্যমে বার্কলে একজন খাঁটি অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিকরূপে গণ্য হন। অবশ্য এরূপ তত্ত্বের ক্ষেত্রে পরবর্তী পর্যায়ে বেশ কিছু ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। যাই হোক

জ্ঞানের উৎস ও স্বরূপ সম্পর্কে লকের মতবাদ সবিচার আলোচনা করো।

জ্ঞানের উৎস ও স্বরূপ সম্পর্কে লকের বক্তব্য প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক জন লক হলেন একজন অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক। তিনি বুদ্ধিবাদের বিরোধিতা করে দাবি করেন যে, বুদ্ধি নয়, অভিজ্ঞতাই হল জ্ঞানের একমাত্র উৎস। আর যে মতবাদ অনুযায়ী দাবি করা হয়-ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতাই হল জ্ঞানের একমাত্র উৎস-সেই মতবাদকেই বলা হয় অভিজ্ঞতাবাদ (empiricism)। অভিজ্ঞতার জগৎ থেকে সার্বিক ও নিশ্চিত জ্ঞান যে লাভ করা যায়-তা প্রথম প্রমাণ করেন বৈজ্ঞানিক নিউটন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বলা যায় যে, দার্শনিক লক পরবর্তীকালে এরূপ মতবাদটিকে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক মতবাদে ভূষিত করেছেন। লকের অভিমত:  লক দাবি করেন যে, আমাদের মনে এমন কিছুই নেই যা পূর্বে আমাদের ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতায় ছিল না। সেকারণেই তিনি আমাদের মনে আগে থেকে থাকা সহজাত ধারণা (innate ideas)-র বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। বুদ্ধিবাদী দার্শনিক দেকার্ত জন্মের পূর্ব থেকে আমাদের মনে সহজাত ধারণার বিষয়টিকে স্বীকার করে নিয়েছেন। কিন্তু লক এরূপ বিষয়টিকে নস্যাৎ করেছেন। তিনি বলেন জন্মের সময়ে আমাদের মন থাকে এক অলিখিত সাদা কাগজের মতো (tabula rasa)। ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতায় আমাদের মনে নানারকম ধারণা (ideas) মুদ্রিত হয় এবং

কান্ট কোন্ ধরনের দার্শনিক? বুদ্ধিবাদী না অভিজ্ঞতাবাদী?

বুদ্ধিবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে কান্টের অভিমত  বুদ্ধিবাদ অনুসারে, বুদ্ধিই হল জ্ঞানের একমাত্র উৎস। অর্থাৎ, বুদ্ধির মাধ্যমেই সমস্ত জ্ঞান লাভ করা যায়। বুদ্ধি ছাড়া আর অন্য কোনো মাধ্যমেই জ্ঞান লাভ করা যায় না। বুদ্ধিবাদীরা তাই ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতাকে নস্যাৎ করেছেন এবং বলেছেন যে, অভিজ্ঞতা কখনোই সার্বিক জ্ঞান দিতে পারে না। অপরদিকে, অভিজ্ঞতাবাদ অনুযায়ী, ইন্দ্রিয় সংবেদন তথা অভিজ্ঞতাই হল আমাদের জ্ঞানলাভের একমাত্র উৎস। অভিজ্ঞতা ছাড়া আর অন্য কোনোভাবেই জ্ঞান লাভ করা যায় না। অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিকগণ তাই বুদ্ধির বিষয়টিকে নস্যাৎ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, বুদ্ধি কখনোই নিশ্চিত জ্ঞানদানে সমর্থ নয়। জ্ঞানের উৎপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে কান্টের বক্তব্য:  প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট দাবি করেন যে, জ্ঞানের উৎপত্তির ক্ষেত্রে বুদ্ধিবাদ বা অভিজ্ঞতাবাদ-কোনোটিই সন্তোষজনক মতবাদ নয়। কারণ, বুদ্ধি অথবা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা কখনোই সমস্তপ্রকার জ্ঞান লাভ করতে পারি না। বুদ্ধিবাদ এবং অভিজ্ঞতাবাদ উভয়েই জ্ঞানের আংশিক বিষয়কে উল্লেখ করে, কখনোই সার্বিক বিষয়কে নয়। আমাদের বুদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা-দুটোই অত্যন্ত সীমিত। সেকারণে

কান্টের বিচারবাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

কান্টের বিচারবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলির মধ্যে কান্টের বিচারবাদ হল একটি অন্যতম দার্শনিক মতবাদ। জ্ঞানের উৎপত্তির বিষয়ে কান্টের বিচারবাদের পূর্বে বুদ্ধিবাদ (rationalism) এবং অভিজ্ঞতাবাদের (empiricism) পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু এই দুটি মতবাদই হল চরমপন্থী ও একদেশদর্শী মতবাদরূপে গণ্য। জ্ঞানের উৎপত্তির বিষয়ের এই দুটি মতবাদ কখনোই সন্তোষজনক নয়। কারণ, বুদ্ধিবাদ কেবল বুদ্ধিকেই জ্ঞানের মৌল উৎসরূপে স্বীকার করেছে এবং অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করেছে। অপরদিকে, অভিজ্ঞতাবাদ কেবল ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের মৌল উৎসরূপে উল্লেখ করেছে এবং বুদ্ধির ভূমিকাকে অস্বীকার করেছে। ফলত এই দুটি জ্ঞানতাত্ত্বিক মতবাদই নির্বিচারবাদে পরিণত হয়েছে। দার্শনিক কান্ট জ্ঞানের উৎস সম্পর্কিত এই দুটি মতবাদের সমন্বয় ঘটিয়ে বিচারবাদ (critical theory)- এর সূচনা করেছেন। কান্টের জ্ঞানতাত্ত্বিক চিন্তাধারার তিনটি পর্যায়:  কান্টের জ্ঞানোৎপত্তির চিন্তাধারার বিকাশের ক্ষেত্রে মোটামুটি তিনটি পর্যায় পরিলক্ষিত হয়। প্রথম পর্যায়ে তিনি অধিবিদ্যার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রখ্যাত বুদ্ধিবাদী দার্শনিক লাইবনিজ ও ভলফের চিন্তাধারায় প্রভাবিত হন। এই পর্যায়ের

কান্টের বিচারবাদ কতদূর গ্রহণযোগ্য?

কান্টের বিচারবাদের গ্রহণযোগ্যতা দার্শনিক কান্ট তাঁর বিচারবাদের মাধ্যমে জ্ঞানতত্ত্বের ক্ষেত্রে এক আলোড়নের সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর বিচারবাদের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, প্রকৃত জ্ঞানের মধ্যে অভিজ্ঞতার সান্নিধ্যে যেমন নতুনত্ব থাকে, তেমনই আবার বুদ্ধির পরশে তা সার্বিক ও অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই ধরনের জ্ঞানকে তিনি যে বচনের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, সেই বচনকেই বলা হয় অভিজ্ঞতা পূর্ব সংশ্লেষক বচন (Synthetic A-Priori proposition)। এ হল জ্ঞানতত্ত্বের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁর এরূপ প্রয়াসটিও কোপারনিকাসের বিপ্লবের সঙ্গে তুলনীয়। তা সত্ত্বেও বলা যায় যে, কান্টের এই বিচারবাদ কখনোই সমালোচনার ঊর্দ্ধে নয় এবং তাই এরূপ মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কান্টের বিচারবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি হল- [1] জ্ঞানের উৎপত্তির ক্ষেত্রে দ্বৈতবাদের উদ্ভব: দার্শনিক কান্ট জ্ঞানের উৎপত্তির ক্ষেত্রে বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার আমদানি করে এক জ্ঞানতাত্ত্বিক দ্বৈতবাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানের ক্ষেত্রে দুটি উপকরণের উল্লেখ করেছেন-যার একটি হল আকার (form) এবং অপরটি হল উপাদান (matter)। এই দুটি উপাদান সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। কারণ, উপাদান পাওয়া যায় বস্তু

কার্যকারণ সম্বন্ধের ধারণাটি কী?

কার্যকারণ সম্বন্দ্বের ধারণা প্রাথমিক ধারণা:  আমাদের এই অভিজ্ঞতালব্ধ জগৎ হল বৈচিত্র্যপূর্ণ ঘটনার জগৎ। এই জগতে ঘটনাগুলি আদৌ স্বতন্ত্র ও বিক্ষিপ্তরূপে থাকতে পারে না। কারণ, ঘটনাগুলি এমনই এক পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে যে, একটি ঘটনা ঘটলে তার অনুসারীরূপে আরও একটি ঘটনা ঘটে। এই সমস্ত ঘটনার প্রথমটিকে বলা হয় কারণ এবং পরের বা অনুগামী ঘটনাটিকে বলা হয় কার্য। আর এদের অন্তঃস্থিত যে পারস্পরিক সম্বন্ধ, তাকেই বলা হয় কার্যকারণ সম্বন্ধ। উদাহরণস্বরূপ, জলপান করলে তৃয়া দূর হয়। এক্ষেত্রে জলপান হল কারণ আর তৃয়া নিবারণ হল কার্য। সাধারণ মানুষ, বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তি এবং দার্শনিক-সকলেই এই কার্যকারণ সম্পর্কে বিশ্বাসী। কার্যকারণ সম্বন্ধে ঐকমত্যের অভাব:  কার্যকারণ সম্বন্ধের প্রকৃতি নিয়ে সবাই একমত পোষণ করেন না। কারও মতে, কার্য ও কারণের মধ্যে একপ্রকার অনিবার্য সম্বন্ধ আছে; কারও মতে, তাদের মধ্যে কোনো অনিবার্য সম্পর্ক নেই। অনেকেই কার্য ও কারণের সম্পর্ককে এক স্বাভাবিক সম্পর্করূপেই পর্যবেক্ষণ করেন। আবার অনেকে উল্লেখ করেন যে, কার্য ও কারণের সম্বন্ধের বিষয়টি একটি মানসিক অভ্যাস মাত্র। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কার্য ও কারণের সম্পর্কক

কারণ কী? কার্য কী? দুটি ঘটনার সম্পর্কের জ্ঞান কী অভিজ্ঞতাপূর্ব না অভিজ্ঞতালব্ধ?

কারণ কারণ হল এমনই এক ঘটনা, যার জন্য অন্য কোনো একটি ঘটনা ঘটে। 'ক' যদি 'খ'-এর কারণ হয়, তবে 'ক' নামক ঘটনাটি 'খ' নামক ঘটনাকে ঘটায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, বৃষ্টিপাত হল মাটি ভেজার কারণ, ধোঁয়া হল আগুনের কারণ ইত্যাদি।  কার্য কারণ যা কিছু ঘটায়, তাকেই বলা হয় কার্য। অর্থাৎ, পার্থিব জগতে যা কিছুই ঘটে, তাকেই বলা হয় কার্য। 'ক' যদি 'খ'-কে ঘটায়, তাহলে 'খ' হল কার্য। যেমন-আমরা বলতে পারি যে, মাটি ভেজা বৃষ্টিপাতের কার্য, দহন হল আগুনের কার্য ইত্যাদি। কারণ ও কার্যের সম্পর্কের ধরণ কারণ ও কার্যের জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনার শুরুতেই যে প্রশ্ন ওঠে, তা হল, কারণ ও কার্যের সম্পর্কের জ্ঞান কি অভিজ্ঞতাপূর্ব না অভিজ্ঞতালব্ধ? এর উত্তরে বলা যায়, কারণ ও কার্য দুটি স্বতন্ত্র ঘটনারূপে গণ্য। এই ঘটনা দুটি কখনোই পারস্পরিকভাবে বিচ্ছিন্ন নয়। একটি ঘটনা আর-একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ, কারণ ও কার্য রূপ ঘটনা দুটির মধ্যে একপ্রকার সম্বন্ধ বিদ্যমান। কিন্তু এদের সম্পর্ক অভিজ্ঞতাপূর্ব (A-Priori) না অভিজ্ঞতালব্ধ (A-Posteriori), সে সম্পর্কে দার্শনিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। আর এরূপ মত

কার্যকারণ সম্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ বা লৌকিক মত কী?

কার্যকারণ ও সম্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ তথা লৌকিক মত কার্যকারণ সম্বন্ধ বিষয়ে সাধারণ বা লৌকিক মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কার্যকারণ সম্বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি আছে। আমাদের জীবনের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই মূলত এরূপ মতবাদটি গড়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় পাওয়া লৌকিক বিশ্বাসই হল এরূপ মতবাদের মৌল ভিত্তি। সে কারণেই কার্যকারণ সম্পর্কিত সাধারণ মানুষের মতবাদকে লৌকিক মতবাদরূপে গণ্য করা হয়। কার্যকারণ সম্পর্কিত লৌকিক মতবাদের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। [1] কারণ ও কার্য সমকালীন ও পারস্পরিকভাবে সম্বন্ধযুক্ত : লৌকিক মতে, কারণ ও কার্য হল দুটি সমকালীন ঘটনা এবং একটি অপরটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাঁদের মতে, এই পার্থিব জগতে কোনো ঘটনাই বিচ্ছিন্ন নয়। হঠাৎ বা দৈবাৎ কোনো কিছুই ঘটতে পারে না। তাই একটি ঘটনা আর-একটি ঘটনার কারণ বা কার্যরূপে গণ্য হয়। [2] কারণ হল কার্যের পূর্ববর্তী :  লৌকিক মতে, যে দুটি ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্বন্ধ পরিলক্ষিত হয়, তাদের মধ্যে আগে যে ঘটনাটি ঘটে, তাকেই বলা হয় কারণ। আর কারণের পরে যে ঘটনাটি ঘটে, তাকে বলা হয় কার্য। তাই কারণকে ক

"কারণ ও কার্যের মধ্যে অবশ্যম্ভাবী সম্বন্ধ আছে'- এরূপ অভিমতটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

কারণ ও কার্যের মধ্যে অবশ্যম্ভাবী সম্বন্দ্বের আলোচনা কারণ ও কার্যের মধ্যে অবশ্যম্ভাবী সম্বন্ধ আছে এরূপ অভিমতটি হল একদিকে সাধারণ মানুষের এবং অপরদিকে বুদ্ধিবাদী দার্শনিকদের। কার্যকারণের মধ্যে অবশ্যম্ভাবী সম্বন্ধ বর্তমান-এবিষয়ে বুদ্ধিবাদী দার্শনিকেরা যেসকল যুক্তিগুলি দিয়েছেন- কারণ থাকলে কার্য ঘটবেই:  সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিবাদী দার্শনিকদের মতে, কারণ থাকলে কার্য ঘটবেই। অর্থাৎ, কার্য সবসময়ই কারণকে অনুগমন করে। কারণ ও কার্যের মধ্যে সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে বুদ্ধিবাদীদের এরূপ মতবাদটি অবশ্যম্ভাবী সম্বন্ধ মতবাদ তথা অনিবার্য সম্বন্ধ মতবাদ নামে খ্যাত। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ বিশেষ করে দেকার্ত, স্পিনোজা এবং লাইবনিজ প্রমুখ দার্শনিকগণ দাবি করেন যে, কারণ ও কার্যের মধ্যে একপ্রকার অনিবার্য তথা অবশ্যম্ভাবী সম্বন্ধ আছে। এঁরা ছাড়া ব্রড, ব্লান্ডসার্ড, ইউয়িং প্রমুখ দার্শনিকও কারণ ও কার্যের মধ্যে একটি আবশ্যিক সম্বন্ধকে স্বীকার করেছেন। এঁরা কারণ ও কার্যের অনিবার্যতাকে প্রসক্তি সম্বন্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক জন লকও এরূপ সম্বন্ধকে স্বীকার করে নিয়েছেন।  কার্যের সংঘটনে কারণের

কার্যকারণ সম্পর্কিত অবশ্যম্ভাবী বা প্রসক্তি মতবাদটি কতদূর গ্রহণযোগ্য?

কার্যকারণ সম্পর্কিত অবশ্যম্ভাবী বা প্রসক্তি মতবাদটির গ্রহণযোগ্যতা বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ দাবি করেন যে, কার্য ও কারণের মধ্যে একপ্রকার আবশ্যিক বা অনিবার্য সম্পর্ক বিদ্যমান। কার্য ও কারণের মধ্যে এই আবশ্যিক সম্বন্ধের স্বরূপ উল্লেখ করতে গিয়ে দার্শনিক ইউয়িং প্রসক্তি সম্বন্ধের উল্লেখ করেছেন। প্রসক্তি সম্বন্ধ অনুসারে যুক্তিবাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি যেমন প্রসত্ত হয়, তেমনই কারণ থেকেও কার্যটি প্রসত্ত হয়। কিন্তু এই অনিবার্য বা প্রসক্তি সম্বন্ধের বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগগুলি উত্থাপিত হতে পারে- [1] অনিবার্য বা প্রসক্তি সম্বন্ধ প্রত্যক্ষযোগ্য নয়: অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিকগণ দাবি করেন যে, কার্য ও কারণ নামক দুটি ঘটনাকে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতায় প্রত্যক্ষ করে থাকি। কিন্তু তাদের অন্তঃস্থিত যে আবশ্যিক বা প্রসক্তি সম্পর্ক আছে বলে দাবি করা হয়, তাকে আমরা কখনোই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পাই না। সুতরাং প্রসক্তিমূলক কোনো অনিবার্যতাকে স্বীকার করা কখনোই সংগত নয়। [2] অনিবার্য বা প্রসক্তি সম্পর্ক সার্বিক বলে গ্রহণযোগ্য নয়: বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ দাবি করেছেন যে, কারণ ও কার্যের মধ্যে আবশ্যিক সম্বন্ধটি হল সর্বকালীন। কিন্তু আমরা আমাদের অভিজ্ঞ

কারণ ও কার্যের মধ্যে প্রসক্তি সম্বন্ধ আছে।"—এই বক্তব্যের সপক্ষে ইউয়িংয়ের যুক্তি কী?

কারণ ও কার্যের মধ্যে প্রসক্তি সম্বন্ধ বিষয়ে ইউয়িংয়ের যুক্তি বুদ্ধিবাদী দার্শনিকদের মতানুসারে কারণ ও কার্যের মধ্যে একপ্রকার আবশ্যিক বা অনিবার্য সম্পর্ক আছে। কার্যকারণ সম্পর্কিত এরূপ অনিবার্য সম্পর্ককে অধ্যাপক ইউয়িং (Ewing) তর্কবিজ্ঞানসম্মত বা যৌক্তিক অনিবার্যতা (logical necessity) রূপে উল্লেখ করেছেন। এরূপ যৌক্তিক বা তর্কবিজ্ঞানসম্মত অনিবার্যতাকেই বলা হয় প্রসক্তি সম্বন্ধ (entailment relation)। কারণ ও কার্যের মধ্যে যে প্রসক্তি সম্বন্ধ আছে, তার সপক্ষে ইউয়িং দুটি যুক্তির উল্লেখ করেছেন- প্রথম যুক্তি: হেতুবাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি যেমন নিঃসৃত হয়, তেমনই কারণ থেকে কার্যটিও নিঃসৃত হয়। যেমন- সকল কবি হন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন (হেতুবাক্য)। রবীন্দ্রনাথ হন কবি (হেতুবাক্য)। .. রবীন্দ্রনাথ হন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন (সিদ্ধান্ত)। ব্যাখ্যা: তর্কবিজ্ঞানে আমরা অবরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে হেতুবাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠা করি। এরূপ অনুমানের সিদ্ধান্তটি যুক্তিবাক্য তথা হেতুবাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। যুক্তিবাক্য তথা হেতুবাক্যের সত্যতার ওপর সিদ্ধান্তের সত্যতাও নির্ভর করে। অনুরূপভাবে, কারণের ধারণা থেকে কার্যের ধারণ

বিজ্ঞান কাকে বলে?

বিজ্ঞান কাকে বলে? বিজ্ঞান বলতে আমরা বুঝি প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের একটি পদ্ধতি। পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এবং যুক্তি ব্যবহার করে আমরা এই জ্ঞান অর্জন করি। বিজ্ঞান কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমই নয়, এটি জ্ঞানকে সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্তভাবে সংগঠিত করার পদ্ধতিও বটে। বিজ্ঞানের উপাদান (Elements of Science) : পর্যবেক্ষণ : প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের বিভিন্ন ঘটনাবলীকে মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা : নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করে ঘটনাবলীর কারণ-কার্য সম্পর্ক নির্ধারণ করা। যুক্তি : পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল থেকে সঠিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। বিজ্ঞানের সূত্র (Principles of Science) : প্রাকৃতিক ঘটনাবলী নিয়ম-কানুন মেনে চলে। এই নিয়ম-কানুন পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা সম্ভব। নিয়ম-কানুনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের ঘটনাবলী পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য (Purpose of Science) : প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। পৃথি

প্রসক্তি সম্বন্ধ কাকে বলে? কারণ ও কার্য বিষয়ে প্রসক্তি তত্ত্ব সমালোচনা-সহ ব্যাখ্যা করো।

প্রসক্তি সম্বন্ধ কার্যকারণ সম্পর্কে বুদ্ধিবাদীদের অভিমতকে আবশ্যিক বা অবশ্যম্ভব মতবাদরূপে উল্লেখ করা হয়। এরূপ অভিমতের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে যে, কার্যের ধারণাটি অনিবার্য বা আবশ্যিকভাবে কারণের ধারণা থেকে নিঃসৃত হয়। অর্থাৎ, কারণ ও কার্যের মধ্যে একপ্রকার আবশ্যিকতার সম্পর্ক আছে। কারণ ও কার্যের মধ্যে এই আবশ্যিকতার সম্বন্ধটি কীরূপ তা বোঝাতে গিয়েই প্রখ্যাত বুদ্ধিবাদী দার্শনিক ইউয়িং কার্যকারণের সম্বন্ধের ক্ষেত্রে প্রসক্তি সম্বন্ধের বিষয়টিকে উল্লেখ করেছেন। কারণ ও কার্য বিষয়ে প্রসক্তি তত্ত্ব প্রসক্তি সম্বন্ধ হল এমনই একপ্রকার অনিবার্যতার সম্বন্ধ যা একটি বৈধ অবরোহ যুক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়। কারণ, যে-কোনো বৈধ অবরোহ যুক্তির ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে যুক্তিবাক্য থেকে নিঃসৃত হয়। সেক্ষেত্রে যুক্তিবাক্য এবং সিদ্ধান্তের সম্বন্ধটি একপ্রকার আবশ্যিক সম্বন্ধরূপে গণ্য। বৈধ অবরোহ যুক্তিতে যদি যুক্তিবাক্যগুলি সত্যরূপে গ্রাহ্য হয় তবে তা থেকে একটি সত্য সিদ্ধান্ত নিঃসৃত না হয়ে পারে না অর্থাৎ, যুক্তিবাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। এরূপ বিষয়ের কোনো ব্যতিক্রম হতে পারে না। অনুরূপভা

কারণ ও কার্যের সম্পর্ক আবশ্যিক'-এই মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

কারণ ও কার্যের সম্পর্ক আবশ্যিক কার্যকারণ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে লৌকিক মতবাদের ওপর ভিত্তি করেই বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ কার্য ও কারণের মধ্যে আবশ্যিক সম্পর্কের উল্লেখ করেছেন। এরূপ মতবাদ অনুসারে, কার্য ও কারণের মধ্যে একপ্রকার আবশ্যিকতার সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ, কারণের বিষয়টি উত্থাপিত হলে, কার্যের বিষয়টিও উত্থাপিত হয়। উদাহরণস্বরূপ আগুন (কারণ) এবং দহন (কার্য) উভয়ের মধ্যে এই অনিবার্য বা আবশ্যিক সম্বন্ধ বিদ্যমান। কারণ, যখনই আগুনের বিষয়টি উত্থিত হয়, তখনই দহনের বিষয়টি এসে পড়ে। বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ কারণ ও কার্যের আবশ্যিক সম্পর্কের সপক্ষে কয়েকটি যুক্তির উল্লেখ করেছেন- প্রথম যুক্তি:  কার্যকারণের ধারণা সহজাত বলেই তা আবশ্যিক। বুদ্ধিবাদীরা কার্য ও কারণের ধারণাকে সহজাত ধারণারূপে উল্লেখ করেছেন। আর যে ধারণা সহজাতরূপে গণ্য, তা আবশ্যিকরূপেও স্বীকৃত। তাঁরা দাবি করেন যে, কার্যকারণের সহজাত ধারণা আমাদের আছে বলেই আমরা একটিকে দেখে আর-একটির কথা মনে করি। তাই কার্য থেকে কারণ কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না। তারা পারস্পরিকভাবে আবশ্যিক সম্পর্কে সম্পর্কিত।  দ্বিতীয় যুক্তি:  কারণ ও কার্যের সম্বন্ধ ব্যতিক্রমহীন এবং সে কার

কারণ কার্যের নিয়ত পূর্ববর্তী ঘটনা মাত্র।"—এই মতবাদের সপক্ষে যুক্তিগুলি কী?

কারণ কার্যের নিয়ত পূর্ববর্তী ঘটনা মাত্র।"-মতবাদের সপক্ষে যুক্তি "কারণ কার্যের নিয়ত পূর্ববর্তী ঘটনা মাত্র।"-এই অভিমতটি হল ডেভিড হিউমের। কার্যকারণ বিষয়ে হিউমের মতবাদের সপক্ষে যেসকল যুক্তিগুলি উল্লেখ করা যায়- [1] কার্যের নিয়ত পূর্ববর্তী ঘটনা হিসেবে কারণ: একজন অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক হিসেবে হিউম কার্য ও কারণের মধ্যে অবশ্যম্ভাবী মতবাদকে কখনোই স্বীকার করেননি। তিনি অভিজ্ঞতাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কার্যকারণ সম্বন্ধকে ব্যাখ্যা করেছেন। এভাবেই তিনি একদিকে বুদ্ধিবাদীদের কার্যকারণ সম্পর্কিত অনিবার্য মতবাদটিকে খণ্ডন করেছেন, অপরদিকে স্বমত প্রতিষ্ঠা করে কারণকে কার্যের নিয়ত পূর্ববর্তী ঘটনারূপে উল্লেখ করেছেন। [2] অতীত ও ভবিষ্যতের ঘটনাকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় পাওয়ার অপারগতা:  হিউম কার্যকারণের মধ্যেকার অনিবার্যতা সংক্রান্ত মতবাদকে অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, কার্য ও কারণের মধ্যে অনিবার্য সম্বন্ধ থাকলে আমরা এ কথা মেনে নিতে বাধ্য যে, সর্বকালেই কারণের উপস্থিতিতে কার্যটি ঘটে। অর্থাৎ, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সমস্তকালেই এরূপ ঘটনা ঘটতে বাধ্য। কিন্তু অভিজ্ঞতায় আমরা কখনোই অতীত ও ভবিষ্যৎকালীন বিষয় সম্পর্কে

কার্যকারণ সম্পর্কে অনিবার্য মতবাদটি আলোচনা করো।

কার্যকারণ সম্পর্কে অনিবার্য মতবাদ কার্যকারণ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে যে-সমস্ত মতবাদ পরিলক্ষিত হয়, তাদের মধ্যে অনিবার্য তথা প্রসক্তি তত্ত্বটি হল অন্যতম। কার্যকারণ সম্পর্কে এরূপ মতবাদটি মূলত বুদ্ধিবাদীদের মতবাদ রূপেই গণ্য। বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ সাধারণত মনে করেন যে, কারণ ও কার্যের মধ্যে একপ্রকার আবশ্যিক বা অনিবার্য সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ, কার্য যে কেবল কারণকে অনুগমন করে তা- ই নয়, কারণ হাজির হলে কার্যটিও অবশ্যই হাজির হয়। এরূপ আবশ্যিক মতবাদ অনুযায়ী, কারণ ও কার্যের মধ্যে একপ্রকার অনিবার্য ও আন্তর সম্পর্ক রয়েছে। বুদ্ধিবাদীরা দাবি করেন যে, কারণ হল কার্যের উৎপাদক। সেকারণেই কারণের প্রকৃতি অনুযায়ী কার্যটিও উৎপন্ন হয়। সুতরাং কার্যকারণের মধ্যে একপ্রকার অনিবার্য সম্পর্ক আছে। ইউয়িংয়ের প্রসক্তি তত্ত্ব: বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ কার্য ও কারণের মধ্যে যে অনিবার্য সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন, তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা কার্যকারণের সম্বন্ধটিকে প্রসক্তি তত্ত্ব (entailment theory) রূপে উপস্থাপিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইউয়িং (Ewing)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে, প্রসক্তি সম্বন্ধ হল এমনই এক সম্বন্ধ, যা অবরোহ অনুমা

কার্যকারণ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে হিউমের মতবাদটি আলোচনা করো।

কার্যকারণ সম্পর্কিত হিউমের মতবাদ কার্যকারণ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে বুদ্ধিবাদী দার্শনিকদের বিপরীত এক মতবাদ প্রচার করেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউম। বুদ্ধিবাদীদের মতে, কারণ ও কার্যের মধ্যে একপ্রকার অনিবার্যতার সম্বন্ধ থাকে। কিন্তু অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক ডেভিড হিউম বুদ্ধিবাদীদের এরূপ অভিমতটিকে নস্যাৎ করেছেন। তাঁর মতে, কার্য ও কারণের ধারণাটি আমাদের অভিজ্ঞতালব্ধ দুটি ধারণার বা ঘটনার অন্তঃস্থিত এক নিয়ত বা সততসংযোগের ধারণা মাত্র। কার্যকারণের ধারণাটি এর অতিরিক্ত কোনো ধারণা নয়। তাই কার্যকারণ সম্পর্কিত হিউমের মতবাদ সতত সংযোগ তত্ত্ব নামে খ্যাত। মূলকথা: হিউমের কার্যকারণ ধারণার ক্ষেত্রে মূলত দুটি দিক লক্ষ করা যায়। প্রথম দিকটিতে তিনি বুদ্ধিবাদী দার্শনিকদের অনিবার্য সম্বন্ধ মতবাদ তথা প্রসক্তি মতবাদকে নস্যাৎ করেছেন। আর দ্বিতীয় দিকটিতে তিনি তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতাবাদী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। কার্যকারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর এই প্রথম দিকটিকে নঞর্থক দিকরূপে উল্লেখ করা যায়, আর দ্বিতীয় দিকটিকে তাঁর সদর্থক দিকরূপে অভিহিত করা যায়। হিউমের কার্যকারণ তত্ত্বের প্রথম বা নঞর্থক দিক:  ডেভিড হিউম প্রথমেই কার্

হিউমের কার্যকারণ সম্পর্কিত মতবাদের বিরুদ্ধে যুক্তিগুলি কী?

হিউমের কার্যকারণ সম্পর্কিত মতবাদের বিরুদ্ধে যুক্তি কার্যকারণ সম্পর্কে হিউম অনিবার্য বা অবশ্যম্ভাবী মতবাদ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, কার্যকারণ সম্বন্ধ হল দুটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার মধ্যে একপ্রকার পরস্পরনির্ভর সম্পর্ক, যা সতত বা সর্বদাই বিদ্যমান। কার্যকারণ সম্পর্কিত হিউমের মতবাদটি সতত সংযোগ তত্ত্ব নামে খ্যাত। কিন্তু অনেকেই, বিশেষ করে বুদ্ধিবাদী দার্শনিকগণ কার্যকারণ সম্পর্কিত এরূপ মতবাদকে সমর্থন করতে পারেননি। এমনকি বলা যায় যে, অভিজ্ঞতাবাদী হয়েও প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক জন লক এবং জন স্টুয়ার্ট মিল প্রমুখ দার্শনিক কার্য ও কারণের অন্তঃস্থিত সম্পর্ককে স্বীকার করে নিয়েছেন। কার্যকারণ সম্পর্কিত হিউমের মতবাদের বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগগুলি উত্থাপিত করা যায়- প্রথম যুক্তি: দুটি ঘটনার পারম্পর্য সবসময় কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সমর্থ নয়। হিউম দাবি করেছেন যে, কার্য ও কারণ রূপ দুটি ঘটনাকে একসঙ্গে পরপর ঘটতে দেখে আমাদের এমন একপ্রকার মানসিক প্রবণতার সৃষ্টি হয় যে, আমরা একটিকে দেখে আর-একটির প্রত্যাশা করে থাকি। অর্থাৎ, তাদের মধ্যে একপ্রকার কার্যকারণ সম্পর্ককে স্বীকার করি। কিন্তু দুটি ঘটনা পরপর একসঙ্গে ঘটলে সর্বদাই

হিউমের সতত সংযোগ মতবাদের মূল্যায়ন করো

হিউমের সতত সংযোগ মতবাদের মূল্যায়ন হিউমের কার্যকারণ সম্পর্কিত সতত সংযোগ তত্ত্বের সপক্ষে সুক্ষ্ম যুক্তিতর্কের বিষয়টি উপস্থিত থাকলেও, তাঁর মতবাদটি কখনোই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। তাঁর মতবাদের বিরুদ্ধে দাশনিকগণ যেসকল যুক্তিগুলি উত্থাপন করেছেন, সেগুলি হল- মিলের আপত্তি:  যুক্তিবিজ্ঞানী মিল দাবি করেন যে, হিউমের সতত সংযোগ তত্ত্বটিকে যদি সত্য বলে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে দিনকে রাত্রির এবং রাত্রিকে দিনের কারণ বলে মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু আমরা জানি যে, দিন ও রাত্রি কোনোটিই একে অপরের কারণ বা কার্য নয়। পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্যই দিন-রাত্রি সংঘটিত হয় বলে, এই দুটিকে সহকার্যরূপে গণ্য করা হয়। সুতরাং, হিউমের সতত সংযোগ তত্ত্বের ক্ষেত্রে এক বিরাট ফাঁক রয়ে গিয়েছে। ঐতিহাসিক ঘটনার সহাবস্থানের ব্যাখ্যায় অসমর্থতা: ঐতিহাসিক ঘটনার সহাবস্থানকে হিউমের তত্ত্বের সাহায্যে আদৌ ব্যাখ্যা করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, ঐতিহাসিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয় যে, 'হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণই হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ', 'নেপোলিয়নের রাশিয়া আক্রমণই তাঁর পতনের কারণ'। কিন্তু হিউমের সতত সংযোগ তত্ত্বকে স্বীকার করলে বলতে হয় যে, যখ