বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি

বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তির ধারণা: 


বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ব্যবহৃত অপ্রচলিত শক্তিগুলির মধ্যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এই শক্তিটিকে 'Waste Energy' বা 'wte' বলা হয়ে থাকে। এই শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামাল হল-পৌর আবর্জনা, কৃষিজমি থেকে প্রাপ্ত খড়, তুষ, আখের ছিবড়ে প্রভৃতি।

বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি উৎপাদন পদ্ধতি: 


(a) গ্যাসীয়করণ: এক্ষেত্রে শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে দাহ্য হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদিত হয়। (b) জৈব পদার্থের দহন প্রক্রিয়া: কঠিন পৌর বর্জ্য (Municipal Solid Waste (MSW)]-কে পুড়িয়ে সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড উৎপাদন করে বিদ্যুৎ সৃষ্টি করা হয়। (c) পাইরোলাইসিস: শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে আলকাতরা জাতীয় পদার্থ উৎপাদন করা হয়। (d) অবাত দহনঃ এই পদ্ধতির সাহায্যে মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হয়। (e) পচন পদ্ধতিঃ বর্জ্য পদার্থ পচনের ফলে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইথানলসহ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। 

বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ: OECD (Organisation of Economically
Co-operative Countries) 


এর প্রচেষ্টায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি উৎপাদনে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য দেশগুলি হল- (i) জাপান: জাপানে (বিশ্বে প্রথম) বছরের প্রায় 42 মিলিয়ন টন বর্জ্য পদার্থ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। (ii) চিন: চিনে প্রায় 60টি বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। (iii) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র: এই দেশের মিশিগান প্রদেশের অন্তর্গত গ্রেলিং জেনারেটিং (38 MW), ক্যাডিলাক (40 MW), গ্রেটার ডেট্রবেট রিসোর্স রিকভারি (66 MW), জেনেসি (37 MW) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য বর্জ্য শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র। 
(Iv) ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য: ডারওয়েন্ট হল, টেসসাইড, পোর্টব্যাক, বিলিংহাম প্রভৃতি এই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বর্জ্য শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র। 
(V) ভারতঃ ভারতের দিল্লি, লখনউ, বিজয়ওয়াড়া ও হায়দরাবাদে বর্জ্য শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সমগ্র দেশে প্রায় 2800 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বর্জ্য পদার্থ থেকে উৎপাদন করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। (vi) অন্যান্য :অস্ট্রিয়ার সিডেলাও, গ্রিসের পাত্রোস, সুইডেনের সালমো, জার্মানির এসেন কারনাপ প্ল্যান্ট, মালয়েশিয়ার ভূমি-বায়ো পাওয়ার স্টেশন প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। 

বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তির সুবিধা:


(1) এটি প্রবহমান, পুনর্ভব শক্তি। (2) এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় যথেষ্ট কম।
(3) পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয়। (4) কাঁচামাল যথেষ্ট সহজলভ্য। (5) পরিবেশ দূষণের মাত্রা হ্রাস পায়।

সমস্যা: (i) উপযোগী উন্নত প্রযুক্তি সর্বত্র পাওয়া যায় না। (ii) বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ব্যয় অত্যন্ত বেশি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ