কোন্ অর্থে বার্কলেকে আত্মগত ভাববাদী বলা হয়?

বার্কলেকে আত্মগত ডাববাদী বলার কারণ

পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে বার্কলে আত্মগত ভাববাদী নামে খ্যাত। তাঁর ভাববাদকে আত্মগত ভাববাদরূপে অভিহিত করা হয়। কারণ, তাঁর ভাববাদ অনুসারে, আমরা বাহ্যজগতে যে সমস্ত বস্তু বা বস্তুধর্ম প্রত্যক্ষ করি, তাদের সব কিছুর অস্তিত্ব জ্ঞাতার মনের ওপর নির্ভরশীল। এই সমস্ত বিষয় বা বস্তুগুলিকে জ্ঞাতার মনের ধারণারূপে গণ্য করা হয়। ঘরবাড়ি, গাছপালা, পাহাড় পর্বত, টেবিল, চেয়ার-এইসব কিছুই হল জ্ঞাতার মনের ধারণা বা ধারণার সমষ্টিমাত্র। জ্ঞাতার মনের ভাব বা ধারণা ছাড়া এগুলির স্বাধীন ও নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই।

বার্কলের স্বীকার্য শুধু জ্ঞাতার ভাব বা ধারণা: 

বার্কলে বাহ্যজগতের জড়বস্তুর অস্তিত্ব খণ্ডন করেছেন। তাঁর মতে, জড়বস্তু বলে কিছু নেই। লক যেগুলিকে জড়বস্তুরূপে অভিহিত করেছেন, সেগুলি প্রকৃতপক্ষে কোনো জড়বস্তু নয়। এগুলি মিথ্যা বিমূর্ত ভাব বা ধারণা মাত্র। তিনি বলেন যে, শুধু জ্ঞাতার মন এবং মনের ধারণা তথা ভাবেরই অস্তিত্ব আছে। এগুলির বাইরে অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। বার্কলের ভাববাদ তাই জ্ঞাতার অহং তত্ত্বেরই এক রূপ মাত্র। আরও পরিষ্কার করে বললে, তাঁর ভাববাদ অহং তত্ত্বের প্রকাশ হিসেবেই গণ্য। তাঁর আত্মগত ভাববাদের আলোকে আমরা বলতে পারি যে, 'আমার চেতনার রঙে পান্না হয়ে ওঠে সবুজ, চুনি হয়ে ওঠে রাঙা ইত্যাদি।' সুতরাং, বার্কলের ভাববাদকে আত্মগত ভাববাদ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।

জ্ঞাতার প্রত্যক্ষের ওপর বস্তুর অস্তিত্বশীলতা: 

বার্কলের ভাববাদ 'আত্মগত ভাববাদ' হিসেবে গণ্য হওয়ার যথার্থতা প্রমাণিত হয়, তাঁর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষনির্ভর তত্ত্বটির দ্বারা। কারণ, বার্কলে তাঁর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষনির্ভর তত্ত্বে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো কিছুর অস্তিত্ব জ্ঞাতার প্রত্যক্ষের ওপর নির্ভর করে। আবার প্রত্যক্ষ ছাড়া কোনো বস্তুর অস্তিত্ব আছে, এ কথা কখনোই বলা যায় না। প্রত্যক্ষ ছাড়া বস্তুর অস্তিত্ব কল্পনা মাত্র। সুতরাং, বার্কলের মতে, বস্তুর অস্তিত্ব নিহিত আছে তার প্রত্যক্ষের মধ্যেই। আর এই প্রত্যক্ষ বলতে বোঝায় জ্ঞাতার মন কর্তৃক কোনো প্রত্যক্ষ ক্রিয়াকে। সুতরাং, বার্কলের ভাববাদ আত্মগত ভাববাদরূপেই গণ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ