জৈবগ্যাস শক্তি

জৈবগ্যাস শক্তির ধারণা: 


জৈব পদার্থকে অক্সিজেন বিহীন অবস্থায় পচিয়ে তা থেকে দাহ্য গ্যাস উৎপাদন করা হয়, তাকে জৈব গ্যাস বলে। মিথেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড প্রভৃতি হল গুরুত্বপূর্ণ জৈবগ্যাস। জৈব গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামাল হল গোবর, যদিও গাছ, সার, আবর্জনা থেকেও জৈব গ্যাস তৈরি করা যেতে পারে।

জৈবগ্যাস শক্তির প্রয়োগ: 


জৈব গ্যাস প্রধানত-(i) জ্বালানি হিসেবে জল গরম করা ও রান্নার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। (ii) জৈব গাস থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ কৃষি যন্ত্রপাতি চালানো, আলো জ্বালানো, জমিতে পাম্পের সাহায্যে জলের সরবরাহ প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা হয়। (iii) জৈব গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদিত গোবর কৃষিক্ষেত্রে সার রূপে ব্যবহৃত হয়। 

জৈবগ্যাস শত্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ: 

জৈব গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলি হল-

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র: 2014 খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪.48 বিলিয়ন কিউবিক মিটার জৈব গ্যাস উৎপাদন করে। এই দেশের টেক্সাসে ইথানল গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম গোবর গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ভারমেন্ট-এ। 

জার্মানি: 2012 খ্রিস্টাব্দের তথ্য অনুসারে জার্মানি জৈব গ্যাস থেকে প্রায় 2910 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে (ইউরোপ প্রথম স্থানাধিকারী)। বাভারিয়া, লোয়ার স্যাক্সানি প্রভৃতি এই দেশের অন্যতম জৈব গ্যাস শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র। এই দেশটি সমগ্র বিশ্বের মোট জৈব গ্যাস শক্তি উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ উৎপাদন করে। 

ভারত: জৈব গ্যাস শক্তি উৎপাদনে বিশ্বে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 2014-15 খ্রিস্টাব্দে ভারতে প্রায় 20,700 লক্ষ কিউবিক মিটার জৈব গ্যাস উৎপন্ন হয়। ভারতের জৈবগ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘটনাকে অনেকে বাদামি বিপ্লব (Brown Revolution) রূপে অভিহিত করেন। ভারতে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের গোসাবা (প্রায় 550 কিলোওয়াট), মোল্লাখালি (প্রায় 510 কিলোওয়াট), কালিম্পং-এর লোলেগাঁও (প্রায় 35 কিলোওয়াট), পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় (প্রায় 120 কিলোওয়াট); দিল্লির কাছে তিমারপুর, পাঞ্জাবের পাতিয়ালা প্রভৃতি স্থানে জৈবগ্যাস শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

এ ছাড়া ব্রাজিল, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চিন, নেপাল প্রভৃতি দেশেও জৈব গ্যাস শক্তি উৎপাদিত হয়।

জৈবগ্যাস শক্তির সুবিধা: (ⅰ) জৈবগ্যাস শক্তি একটি প্রবহমান, পুনর্ভব প্রকৃতির শক্তি। (ii) এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাঁচামালগুলি সহজেই পাওয়া যায়। (iii) এই শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ব্যয় ও পৌনঃপুনিক ব্যয় যথেষ্ট কম। (iv) শক্তি উৎপাদনে গোবর থেকে উৎকৃষ্ট প্রকৃতির জৈব সার উৎপাদন করা যায়। (v) এই কেন্দ্রগুলি গঠন করা অত্যন্ত সহজ। (vi) জৈব গ্যাস শক্তি পরিবেশ-মিত্র প্রকৃতির।

জৈবগ্যাস শক্তির সমস্যা: (i) শহরে জৈব গ্যাস শক্তি ব্যবহার অত্যন্ত কম। (ii) উপযুক্ত পরিমাণ কাঁচামালের অভাব লক্ষ করা যায়। iii) বৃহৎ স্কেলবিশিষ্ট উৎপাদন কেন্দ্র গঠন করা যায় না। (iv) এই শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতার অভাব রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ