জলাশয় সেচ

জলাশয় সেচ (Tank Irrigation)


ভারতের দক্ষিণের মালভূমি অঞ্চলের তরঙ্গায়িত ভূমিভাগের অনেক নীচু অংশে বৃষ্টির জল সঞ্চিত হয়ে জলাশয় গড়ে তোলে। এ ছাড়া ভারতের পূর্বে বিভিন্ন জলাশয় যেমন- পুকুর, হ্রদ প্রভৃতি থেকে জল উত্তোলনের মাধ্যমেও জলসেচ করা যায়। সেচসেবিত

অঞ্চলসমূহ: ভারতের দক্ষিণে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশে বহুল পরিমাণে এবং পূর্বদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, অসম প্রভৃতি রাজ্যে সামান্য পরিমাণে জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচ করা হয়। এই পদ্ধতিতে সেচকার্যে অস্ত্রপ্রদেশ প্রথম (503 হাজার হেক্টর) ও তামিলনাড়ু (620 হাজার হেক্টর) দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী। কৌশল: জলাশয়গুলি থেকে পাম্প, ডোঙা প্রভৃতির মাধ্যমে জল উত্তোলন করে কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হয়।

জলাশয় সেচ শ্রেণিবিভাগ: 


জলাশয় প্রধানত দুই প্রকার। যেমন-(a) প্রাকৃতিক জলাশয় ও (b) কৃত্রিম জলাশয়।

(a) প্রাকৃতিক জলাশয় (Natural Tank): প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বিল, পুকুর, দিঘি প্রভৃতি জলাশয়কে প্রাকৃতিক জলাশয় বলে। (b) কৃত্রিম জলাশয় (Artificial Tank): আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে বা নদী সংলগ্ন স্থানে মৃত্তিকা খনন করে কৃত্রিম উপায়ে যে জলাশয় সৃষ্টি করা হয়, তাকে কৃত্রিম জলাশয় বলে।

জলাশয় সেচ সুবিধাঃ (1) শক্ত শিলা দ্বারা গঠিত অঞ্চলে নলকূপ খননের সমস্যা থাকায় জলাশয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। (ii) জলাশয়গুলির স্থায়িত্ব যথেষ্ট বেশি। (iii) প্রাকৃতিক জলাশয়গুলির ক্ষেত্রে কোনোরূপ নির্মাণ ব্যয় নেই। 
জলাশয় সেচ অসুবিধা: (1) পলি সঞ্চয়ের ফলে জলাশয়গুলির গভীরতা হ্রাস পায়। (ii) শুষ্ক ঋতুতে বা বৃষ্টিপাত খুব কম হলে জলাশয়ের জলের পরিমাণ হ্রাস পায়। (iii) বর্ষাকালে অনেক সময় জলাশয়গুলিতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত জল এসে পড়ায় প্লাবনের সৃষ্টি হয়। (iv) জলাশয় সংস্কারসাধন যথেষ্ট ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ