মিলের চরমপন্থী অভিজ্ঞতাবাদের মূল বিষয়গুলি কী?

মিলের চরমপন্থী অভিজ্ঞতাবাদের মূল বিষয়


চরমপন্থী অভিজ্ঞতাবাদের মুখ্য পুরোধারূপে উল্লেখ করা যায় দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের নাম। মিল হলেন প্রকৃত অর্থেই একজন কঠোর অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক। তিনি ইন্দ্রিয় সংবেদন তথা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা ভিন্ন আর অন্য কোনোভাবেই জ্ঞান লাভ করা যায় না। তিনি দাবি করেন যে, আমরা যে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের জ্ঞানের কথা উল্লেখ করি, সেগুলি কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতারই ভিন্ন ভিন্ন রূপমাত্র। মিলের চরম অভিজ্ঞতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মূল বিষয়গুলিকে উল্লেখ করা হল-

[1] জ্ঞানের উৎস হিসেবে ইন্দ্রিয়ানুভব: কঠোর অভিজ্ঞতাবাদী মিলের মতে, আমাদের জ্ঞানের একমাত্র উৎস হল ইন্দ্রিয়ানুভব। তাঁর মতে, ইন্দ্রিয়ানুভবের মাধ্যমেই আমরা সমস্তপ্রকার জ্ঞান লাভ করে থাকি। ইন্দ্রিয়ানুভব ছাড়া জ্ঞানের অন্য উৎসগুলি ভিত্তিহীন। জ্ঞানোৎপত্তির ক্ষেত্রে বুদ্ধির ভূমিকাকে মিল পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

[2] জ্ঞানের আপতিক রূপ: মিল দাবি করেন যে, যেহেতু আমাদের অভিজ্ঞতা নিয়ত পরিবর্তনশীল, সেহেতু অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানসমূহ কখনোই সুনিশ্চিত ও সার্বিকরূপে গণ্য হতে পারে না। সুতরাং, আবশ্যিক জ্ঞান বলে প্রকৃতপক্ষে কোনো কিছুই হয় না। আমাদের সমস্তপ্রকার জ্ঞানই আপতিক বা সম্ভাব্যরূপে গণ্য।

[3] বুদ্ধিবাদের বিরোধিতা: মিল বুদ্ধিবাদীদের চিন্তার মৌলিক

সূত্রগুলিকে আবশ্যিকরূপে মানেননি। বুদ্ধিবাদীরা দাবি করেন যে, আমাদের চিন্তার ক্ষেত্রে যে-সমস্ত মৌলিক নিয়ম বা সূত্র রয়েছে, সেগুলি একান্তভাবেই আবশ্যিক। কারণ, এই সূত্রগুলির বিরোধী বিষয় চিন্তা করাই হল মিথ্যার নামান্তর। কিন্তু মিল দাবি করেন যে, এগুলি প্রকৃতপক্ষে আবশ্যিক নয়। এগুলিকে আবশ্যিকরূপে মনে করা একপ্রকার মানসিক বিকার বা অভ্যাস মাত্র।

[4 ] গৃহীত পদ্ধতি: চরম অভিজ্ঞতাবাদী মিল জ্ঞানের পদ্ধতি হিসেবে

শুধু আরোহ পদ্ধতিকেই গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, আমরা আরোহ পদ্ধতির মাধ্যমেই বিশেষ বিশেষ ঘটনা থেকে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করি। মিল আরও দাবি করেন যে, বুদ্ধিবাদীরা যে অবরোহাত্মক পদ্ধতির কথা বলেন, তাও আরোহ পদ্ধতির ওপরই নির্ভরশীল।

5] জ্ঞানের পার্থক্যের প্রকৃতি: মিল দাবি করেন যে, আমরা যে [

বিভিন্নপ্রকার জ্ঞানের কথা উল্লেখ করি, তাদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। তাদের মধ্যে যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়, তা শুধু পরিমাণগত। কারণ, কোনোটি কম সম্ভাব্য, আবার কোনোটি বেশি সম্ভাব্যরূপে গণ্য। কিন্তু কোনো জ্ঞানই নিশ্চিত নয়, সবই কমবেশি সম্ভাব্য অর্থাৎ, আমাদের সমস্তপ্রকার জ্ঞানই হল এক প্রকারের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ