বায়ুশক্তি

বায়ুশক্তির ধারণা: 


বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে যে শক্তি উৎপাদন করা হয়, তা বায়ুশক্তি নামে পরিচিত। এই শক্তি প্রবহমান ও পুনর্ভব প্রকৃতির।

বায়ুশক্তি উৎপাদন পদ্ধতি: 


উন্মুক্ত স্থান বা উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের সহায়তায় ব্লেডযুক্ত পাখা ঘোরানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং পাখার সঙ্গে সংযুক্ত ডায়নামোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

বায়ুশক্তির প্রয়োগ : 


প্রাচীনকালে গম ভাঙা, ধান কাটা, কুয়ো থেকে জল তোলা প্রভৃতি কাজে বায়ুশক্তি ব্যবহার করা হত। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনে বায়ুশক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বায়ুশক্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৪১টি দেশে প্রায় 27 হাজার কেন্দ্রে বায়ুশক্তি উৎপাদন করা হয়। 2016 খ্রিস্টাব্দের পরিসংখ্যান অনুসারে, চিন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি বায়ুশক্তি উৎপাদনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের অধিকারী। পৃথিবীতে মোট বায়ুশক্তি উৎপাদনের পরিমাণ 486749 মেগাওয়াট। 

বায়ুশক্তি-ভারত

ভারত বায়ুশক্তি উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানের অধিকারী (2016 খ্রিস্টাব্দ)। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বায়ুশক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলি হল-(১) তামিলনাড়ুর চেন্নাই, কায়াথার, কেথানুর, কন্যাকুমারী প্রভৃতি; (ii) কেরলের রামাক্কালমেড; (iii) কর্ণটিকের যোগমাট্টি; (iv) গুজরাটের লাম্বা (এশিয়ার বৃহত্তর বায়ুশক্তি উৎপাদন কেন্দ্র); (v) মহারাষ্ট্রের ভেঙ্কুসাওয়াড়ে, (vi) পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জ; (vii) অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দরাবাদ, পুথলুর প্রভৃতি। তামিলনাড়ুর উপকূলে এশিয়ার বৃহত্তম 'উইন্ড ফার্ম ক্লাস্টার' ('Wind Farm Cluster') গঠন করা হয়েছে।
তবে ভারতে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে বায়ুশক্তি উৎপাদনের পরিমাণ যথেষ্ট কম। যদিও প্রায় 46500 মেগাওয়াট বায়ুশক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা ভারতে রয়েছে। 

বায়ুশক্তির সুবিধা: (1) বায়ুশক্তি মূলত পরিবেশমিত্র প্রকৃতির শক্তিসম্পদ। (ii) এই শক্তিকেন্দ্র গঠনের জন্য সময় খুব কম লাগে (iii) বায়ুশস্তি একটি প্রবহমান ও পুনর্ভব শক্তি। (iv) এক্ষেত্রে পৌনঃপুনিক ব্যয় অত্যন্ত কম। (v) সর্বত্র বিদ্যুৎ পরিবহণ করা সম্ভব। (vi) এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় অপেক্ষাকৃত লাভজনক। (vii) দিনের যে-কোনো সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

বায়ুশক্তির সমস্যা: (i) এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ব্যয় যথেষ্ট বেশি। (ii) সর্বত্র বায়ুপ্রবাহের পরিমাণ সমান না থাকায় বায়ুশক্তি কেন্দ্র পৃথিবীর সব স্থানে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। (iii) বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ অত্যন্ত কম। (iv) কোনো স্থানে একসঙ্গে একাধিক বায়ুশক্তি কেন্দ্রের অবস্থান থাকলে দৃশ্য দূষণজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। (v) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পাখার ব্রেডের সাহায্যে পাখির মৃত্যু ঘটে। (vi) এই শক্তি কেন্দ্রে যন্ত্র চলার সময় উৎপন্ন শব্দ শব্দদূষণ তৈরি করে। (vii) বায়ু শান্তভাবে বা এলোমেলো ভাবে প্রবাহিত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ