যুক্তির বৈশিষ্ট্য

যুক্তির বৈশিষ্ট্য (Features of Argument)



ভাষায় প্রকাশিত যে-কোনো অনুমানকেই যুক্তি বলা যায় না। যুক্তির কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। এই সমস্ত
বৈশিষ্ট্যগুলির সাহায্যেই যুক্তিকে চিনে নেওয়া যায়। এগুলিকে নীচে উল্লেখ করা হল- 

1) একাধিক বচন বা বাক্য দ্বারা গঠিত: যুক্তি অবশ্যই একাধিক বচন বা বাক্য দ্বারা গঠিত হয়। অর্থাৎ, যুক্তি কখনোই একটি মাত্র বচন দ্বারা গঠিত হতে পারে না। একাধিক বচনের সম্মিলিত রূপেই যুক্তিকে গঠন করা যায়।

2) দুটি অংশ সমন্বিত: যুক্তির দুটি অংশ-হেতুবাক্য বা যুক্তিবাক্য এবং সিদ্ধান্ত। যে বাক্য বা বচনগুলির সাহায্যে আমরা একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হই, সেই বচন বা বচনগুলিকেই বলা হয় হেতুবাক্য (Premises)। আর এই সমস্ত হেতুবাক্যের সাহায্যে যে বাক্য বা বচনটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাকেই বলা হয় সিদ্ধান্ত (Conclusion)। হেতুবাক্য এবং সিদ্ধান্তকে বলা হয় যুক্তির অবয়ব বা অংশ।

3) হেতুবাক্য ও সিদ্ধান্তের অন্তঃস্থিত সম্বন্ধস্বরূপ: যুক্তি বা তর্ক হল হেতুবাক্য এবং সিদ্ধান্তের অন্তঃস্থিত এক সম্বন্ধস্বরূপ। হেতুবাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই-এমন বচন দ্বারা কোনো যুক্তিই গঠন করা যায় না। অর্থাৎ, পারিপার্শ্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন বাক্য বা বচন দিয়ে কোনো যুক্তিই গঠিত হতে পারে না।

যেমন- রাম হয় বুদ্ধিমান। টেবিল হয় কাষ্ঠনির্মিত বস্তু। পৃথিবী হয় গোল। 

এক্ষেত্রে বচন বা বাক্যগুলির সঙ্গে পারস্পরিকভাবে কোনো সংযোগ নেই বলেই এই ধরনের বচনগুলি দ্বারা কোনো যুক্তি (Argument) গঠন করা যায় না। কিন্তু অবয়ব বচন বাক্যগুলির মধ্যে যদি কোনো প্রকার সম্পর্ক থাকে, তাহলে সেগুলি দ্বারা যুক্তি গঠিত হতে পারে। 

যেমন- সকল মানুষ হয় মরণশীল।

রাম হয় মানুষ।

.. রাম হয় মরণশীল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন