Posts

Showing posts with the label ভূগোল

তাপবিদ্যুৎ শক্তি

বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি, যেমন-কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি দহন করে যে তাপশক্তি পাওয়া যায়, তার মাধ্যমে জলকে বাষ্পে রূপান্তরিত করা হয় এবং ওই বাষ্পশক্তির সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে যে গতিশক্তি উৎপন্ন হয় তাকে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করা হয়ে থাকে, যা তাপবিদ্যুৎ নামে পরিচিত। তাপবিদ্যুৎ শক্তির প্রকারভেদ:  তাপবিদ্যুৎ শক্তিকে জ্বালানির উপর নির্ভর করে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়- কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ শক্তি, খনিজ তেল ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ শক্তি। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল থেকে সৃষ্ট বিদ্যুৎশক্তিকে গ্যাস-নির্ভর বিদ্যুৎ ও ডিজেল-নির্ভর বিদ্যুৎ বলা যেতে পারে।  ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রকসমূহ:  জ্বালানির প্রাপ্যতা: কয়লা, খনিজতেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে তাপবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদিত হয়। যেমন-ভারতের পূর্বদিকে ঝরিয়া, রানিগঞ্জ, আসানসোল প্রভৃতি অঞ্চলের কয়লাখনিগুলির ওপর ভিত্তি করে দুর্গাপুর, ব্যান্ডেল, কোলাঘাট প্রভৃতি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকাশ ঘটেছে। বিস্তৃত জমি: কয়লা দহনের ফলে উৎপন্ন ছাই ফেলার জন্য তাপবিদ্যুৎ

প্রচলিত শক্তি

কয়লা, খনিজ তেল, ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, জলপ্রবাহ প্রভৃতি থেকে সাধারণত তিন ধরনের চিরাচরিত বা প্রচলিত শক্তি উৎপাদন করা হয়। যেমন-তাপবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ। তাপবিদ্যুৎ শক্তি (Thermal Energy) তাপবিদ্যুৎ শক্তির ধারণা : বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি, যেমন-কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি দহন করে যে তাপশক্তি পাওয়া যায়, তার মাধ্যমে জলকে বাষ্পে রূপান্তরিত করা হয় এবং ওই বাষ্পশক্তির সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে যে গতিশক্তি উৎপন্ন হয় তাকে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করা হয়ে থাকে, যা তাপবিদ্যুৎ নামে পরিচিত। তাপবিদ্যুৎ শক্তির প্রকারভেদ : তাপবিদ্যুৎ শক্তিকে জ্বালানির উপর নির্ভর করে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়- কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ শক্তি, খনিজ তেল ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ শক্তি। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল থেকে সৃষ্ট বিদ্যুৎশক্তিকে গ্যাস-নির্ভর বিদ্যুৎ ও ডিজেল-নির্ভর বিদ্যুৎ বলা যেতে পারে।  ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রকসমূহ : জ্বালানির প্রাপ্যতা: কয়লা, খনিজতেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে তাপবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদিত হ

জলবিদ্যুৎ শক্তি

জলবিদ্যুৎ শক্তি :  যে বিদ্যুৎ শক্তি খরস্রোতা নদী বা জলপ্রপাতের জলপ্রবাহের সহায়তায় টারবাইন ঘুরিয়ে ডায়নামোর মাধ্যমে উৎপাদিত হয়, তাকে জলবিদ্যুৎ শক্তি বলে। জলবিদ্যুৎ শক্তিকে সাদা কয়লা বা শ্বেত কয়লা (White Coal) বলা হয়, কারণ কালো বর্ণের কয়লা থেকে তাপবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদিত হয় এবং স্বচ্ছ, বর্ণহীন জল থেকে উৎপন্ন হয় জলবিদ্যুৎ শক্তি, তাপবিদ্যুৎ শক্তির সঙ্গে জলবিদ্যুৎ শক্তির তুলনা করে একে শ্বেত কয়লা বলা হয়। জলবিদ্যুৎ শক্তি প্রকারভেদ:  ব্যবহার যোগ্যতার ভিত্তিতে জলবিদ্যুৎ শক্তিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়- সম্ভাব্য জলবিদ্যুৎ শক্তি:  কোনো স্থানের প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাপ্ত জলপ্রবাহ শক্তি থেকে যে জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যেতে পারে, তাকে সম্ভাব্য জলবিদ্যুৎ শক্তি বলে। 2014 খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক জলবিজ্ঞান সংস্থা [World Hydrologi- cal Association (WHA)]-এর তথ্য অনুযায়ী এক্ষেত্রে এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের অধিকারী। প্রকৃত জলবিদ্যুৎ শক্তি:  কোনো স্থানে যে জলবিদ্যুৎ শক্তি ওই অঞ্চলের জলপ্রবাহ শক্তি, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক অবস্থার সহায়তায় বাস্তবে উৎপাদন করা হয়

পারমাণবিক শক্তি

পারমাণবিক শক্তির ধারণা:  অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরমাণুর বিভাজন ঘটিয়ে যে শক্তি উৎপাদন করা হয়, তাকে বলে পারমাণবিক শক্তি। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামালগুলি হল-ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, লিথিয়াম, প্লুটোনিয়াম, ভারী জল, হাইড্রোজেন প্রভৃতি। পৃথিবীতে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পারমাণবিক শক্তি থেকে উৎপাদিত হয়। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া:  পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান দুটি প্রক্রিয়া হল-ফিসন (Fission) এবং ফিউসন (Fusion)। ফিসন হল এমন একটি বিভাজন পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটে অসংখ্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয় এবং এই সময় নির্গত তাপ থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তাই হল পারমাণবিক বিদ্যুৎ। অন্যদিকে ফিউসন হল এমন একটি সংযোজন পদ্ধতি, যার মাধ্যমে পরমাণুর দুটি নিউক্লিয়াস মিলিত হয়ে একটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। এর ফলে যে বিশাল পরিমাণ তাপ উৎপাদিত তার সাহায্যে শুধুমাত্র হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা ছাড়া আর কোনো উৎপাদনমূলক কাজ করা সম্ভব নয়। পারমাণবিক শক্তি-প্রধান উৎপাদনকারী দেশসমূহ:  2017 খ্রিস্টাব্দে International Atomic Energy- এর পরিসংখ্যান অনুসারে পৃথিবীর 30টি দেশে প্রায় 449ট

অপ্রচলিত শক্তি

বিভিন্ন অপ্রচলিত শক্তিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সৌরশক্তি, জোয়ারভাটা শক্তি, সমুদ্রতরঙ্গ শক্তি, ভূতাপীয় শক্তি, বায়ুশক্তি, জৈব-গ্যাস শক্তি, বর্জ্য পদার্থ পুনরাবর্তিত শক্তি প্রভৃতি। সৌরশক্তি (Solar Energy) সৌরশক্তির ধারণা : সূর্য থেকে নির্গত তাপ ও আলো থেকে যে শক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে সৌরশক্তি বলে। সৌরশক্তি একটি প্রবহমান, পুনর্ভব প্রকৃতির সম্পদ। সৌরশক্তির উৎপাদন পদ্ধতি : সৌরশক্তি উৎপাদনের জন্য অন্যতম উপাদান কাহল সৌরকোশ বা পিভি সেল। এই সৌরকোশে থাকে সিলিকন দ্বারা গঠিত সেমি-কনডাক্টর। একাধিক সেল একসঙ্গে মিলে যে প্যানেল গঠিত হয় তার সাহায্যে সৌররশ্মি তাপশক্তিতে ও তাপশক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে পরিণত হয়। সৌরশক্তির ব্যবহার : সৌরশক্তি নিম্নলিখিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়- (i) সৌরকোশের মাধ্যমে উৎপন্ন বিদ্যুতের সাহায্যে পাখা, রেডিয়ো, টিভি, পাম্প চালানো ও রাস্তায় আলো জ্বালানো যায়। (ii) শীতল অঞ্চলে ঘর উন্ন রাখতে ও জল গরম করতে সৌরহিটার ব্যবহৃত হয়। (iii) সৌর কুকার-এর প্রতিফলকের সাহায্যে সৌরতাপের তীব্রতা বৃদ্ধি করে রান্নার কাজ করা হয়। (iv) সৌরকোশের সাহায্যে বর্তমানে গাড়িও চালানো হচ্ছে। (v) সোলার ড্রায়ার-এর সাহায

সৌরশক্তি

সৌরশক্তি ধারণা:  সূর্য থেকে নির্গত তাপ ও আলো থেকে যে শক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে সৌরশক্তি বলে। সৌরশক্তি একটি প্রবহমান, পুনর্ভব প্রকৃতির সম্পদ। সৌরশক্তি উৎপাদন পদ্ধতি:  সৌরশক্তি উৎপাদনের জন্য অন্যতম উপাদান কাহল সৌরকোশ বা পিভি সেল। এই সৌরকোশে থাকে সিলিকন দ্বারা গঠিত সেমি-কনডাক্টর। একাধিক সেল একসঙ্গে মিলে যে প্যানেল গঠিত হয় তার সাহায্যে সৌররশ্মি তাপশক্তিতে ও তাপশক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে পরিণত হয়। সৌরশক্তি ব্যবহার:  সৌরশক্তি নিম্নলিখিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়- (i) সৌরকোশের মাধ্যমে উৎপন্ন বিদ্যুতের সাহায্যে পাখা, রেডিয়ো, টিভি, পাম্প চালানো ও রাস্তায় আলো জ্বালানো যায়। (ii) শীতল অঞ্চলে ঘর উন্ন রাখতে ও জল গরম করতে সৌরহিটার ব্যবহৃত হয়। (iii) সৌর কুকার-এর প্রতিফলকের সাহায্যে সৌরতাপের তীব্রতা বৃদ্ধি করে রান্নার কাজ করা হয়। (iv) সৌরকোশের সাহায্যে বর্তমানে গাড়িও চালানো হচ্ছে। (v) সোলার ড্রায়ার-এর সাহায্যে ফসলের আর্দ্রতা দূর করা যায়। (vi) সৌরপুকুর-এর মাধ্যমে জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে শিল্প ও গৃহস্থালির বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই গরম জল ব্যবহার করা যেতে পারে। পন্ডিচেরি, কণার্টক ও গুজরাটে এই ধরনের সৌরপুকুর বর্তমান।

জোয়ারভাটা শক্তি

জোয়ারভাটা শক্তির ধারণা:  ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় শক্তির উৎসগুলির মধ্যে অন্যতম হল জোয়ারভাটা শক্তি। সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণে মহাসাগর-সাগরের জল নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে কোনো স্থানে স্ফীত হয় এবং অন্যস্থানে নেমে যায়, যা যথাক্রমে জোয়ার ও ভাটা নামে পরিচিত। জোয়ারভাটার প্রবল গতিবেগসম্পন্ন জলপ্রবাহে টারবাইনের সাহায্যে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, তাকে জোয়ারভাটা শক্তি বলে। জোয়ারভাটা শক্তির উৎপাদন পদ্ধতি:  খাঁড়ি বা নদীর মোহানা দিয়ে জোয়ারের সময় প্রবেশ করা জল ধরে রাখার জন্য নির্মিত বাঁধে যেসব সুইস গেট রয়েছে, তা দিয়ে জোয়ারের সময় যেমন জল নদীতে প্রবেশ করে, তেমনি ভাটার সময় সুইস গেটের মাধ্যমে জল ছাড়ার ফলে স্রোতের সৃষ্টি হয়। জোয়ারভাটার এই জলস্রোতেই টারবাইন ঘোরানোর ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। জোয়ারভাটা শক্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ: 1966 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে লা রান্স খাঁড়িতে পৃথিবীর সর্বপ্রথম জোয়ারভাটা শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক মহাসাগর সংলগ্ন অঞ্চলে অধিকাংশ জোয়ারভাটা শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রের অবস্থান লক্ষ করা যায়। প্রধান দেশগুলি হল-দক্ষিণ কোরিয়া (সিহা লেক-পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারভাটা শক্তি

ভূতাপ শক্তি

ভূতাপ শক্তির ধারণা:  ভূ-অভ্যন্তরের তাপ গাইসার, উন্ন প্রস্রবণ প্রভৃতির মাধ্যমে নির্গত হওয়ার সময় যে শক্তি উৎপাদন করা হয় তাকে ভূতাপ শক্তি বলে। এটি একপ্রকার পুনর্ভব, প্রবহমান সম্পদ। আরও পড়ুন:-  সমুদ্রতরঙ্গ শক্তি (Sea Wave Energy) ভূতাপ শক্তি উৎপাদন পদ্ধতি:  পৃথিবীর যেসব স্থানে উয় প্রস্রবণ ও গাইসার আছে সেখানে ভূতাপ শক্তি উৎপাদনের জন্য। দুটি নল ব্যবহার করা হয়। এই দুটি নল ভূগর্ভে প্রায় 3000-3100 মিটার গভীরতায় প্রবেশ করানো হয় এবং অপেক্ষাকৃত বড়ো নলের মাধ্যমে সাধারণ তাপমাত্রার জল ভূগর্ভে প্রেরণ করা হয়। ওই জল ভূগর্ভের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং প্রচণ্ড চাপের প্রভাবে ছোটো নল দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় টারবাইনের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়। আরও পড়ুন:-  ভূতাপ শক্তি (Geothermal Energy)  ভূতাপ শক্তির উৎস:  পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ পৃথিবীর জন্মকাল থেকেই অত্যন্ত উত্তপ্ত। সাধারণত 1 কিমি গভীরতা বৃদ্ধি পেলে উন্নতা বৃদ্ধি পায় গড়ে 25° সে.। তবে গঠনকারী পাতসীমানা অঞ্চলে উন্নতা বৃদ্ধির হার কিছুটা বেশি, অন্যদিকে কঠিন ও প্রাচীন শিলা দ্বারা গঠিত স্থানে উয়তা বৃদ্ধির হার কম। এ ছাড়া ভূগর্ভে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম প্রভৃতি বিভ

সমুদ্রতরঙ্গ শক্তি

সমুদ্রতরঙ্গ শক্তির ধারণা:  সমুদ্রতরঙ্গের শক্তিকে ব্যবহার করে যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় তা সমুদ্রতরঙ্গ শক্তিরূপে পরিচিত। অনুকূল বায়ুপ্রবাহের অভাবে অনেকসময় এই শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হয়। শুধুমাত্র জোয়ারভাটার সময়ই নয়, সাধারণত সবসময়ই এই শক্তি উৎপাদন করা হয়। আরও পড়ুন:-  ভূতাপ শক্তি (Geothermal Energy) সমুদ্রতরঙ্গ শক্তির প্রয়োগ:  সমুদ্রতরঙ্গ শক্তির সাহায্যে (1) সমুদ্রের লবণাক্ত জলকে লবণমুক্ত করে লবণ উৎপাদন করা হয়। (ii) বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই শক্তি ব্যবহৃত হয়।   আরও পড়ুন:-  বায়ুশক্তি (Wind Energy) সমুদ্রতরঙ্গ শক্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ: পোর্তুগালের উত্তরে অ্যাগুকাডোরা ওয়েভ ফার্ম 2008 খ্রিস্টাব্দে গঠন করা হয়, যা পৃথিবীর প্রথম সমুদ্রতরঙ্গ শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র (উৎপাদনক্ষমতা প্রায় 2.3 মেগাওয়াট)। বর্তমানে ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশে এই শক্তি উৎপাদন করা হয়। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের সাইডার (4 মেগাওয়াট), ওর্কনি (2.5 মেগাওয়াট), ইসলে লিমপেট (0.7 মেগাওয়াট); অস্ট্রেলিয়ার পোর্টল্যান্ড, পশ্চিম। অস্ট্রেলিয়া; আয়ারল্যান্ডের ওয়েভবব, ডেনমার্কের ওয়েভস্টার; বেলজিয়ামের

বায়ুশক্তি

বায়ুশক্তির ধারণা:  বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে যে শক্তি উৎপাদন করা হয়, তা বায়ুশক্তি নামে পরিচিত। এই শক্তি প্রবহমান ও পুনর্ভব প্রকৃতির। বায়ুশক্তি উৎপাদন পদ্ধতি:  উন্মুক্ত স্থান বা উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের সহায়তায় ব্লেডযুক্ত পাখা ঘোরানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং পাখার সঙ্গে সংযুক্ত ডায়নামোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।  বায়ুশক্তির প্রয়োগ :  প্রাচীনকালে গম ভাঙা, ধান কাটা, কুয়ো থেকে জল তোলা প্রভৃতি কাজে বায়ুশক্তি ব্যবহার করা হত। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনে বায়ুশক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বায়ুশক্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ :  বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৪১টি দেশে প্রায় 27 হাজার কেন্দ্রে বায়ুশক্তি উৎপাদন করা হয়। 2016 খ্রিস্টাব্দের পরিসংখ্যান অনুসারে, চিন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি বায়ুশক্তি উৎপাদনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের অধিকারী। পৃথিবীতে মোট বায়ুশক্তি উৎপাদনের পরিমাণ 486749 মেগাওয়াট।  বায়ুশক্তি-ভারত :  ভারত বায়ুশক্তি উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানের অধিকারী (2016 খ্রিস্টাব্দ)। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বায়ুশক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলি হল-(১) তামিলনাড়ুর চেন্নাই, কায়াথার,

জৈবগ্যাস শক্তি

জৈবগ্যাস শক্তির ধারণা:  জৈব পদার্থকে অক্সিজেন বিহীন অবস্থায় পচিয়ে তা থেকে দাহ্য গ্যাস উৎপাদন করা হয়, তাকে জৈব গ্যাস বলে। মিথেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড প্রভৃতি হল গুরুত্বপূর্ণ জৈবগ্যাস। জৈব গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামাল হল গোবর, যদিও গাছ, সার, আবর্জনা থেকেও জৈব গ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। জৈবগ্যাস শক্তির প্রয়োগ:  জৈব গ্যাস প্রধানত-(i) জ্বালানি হিসেবে জল গরম করা ও রান্নার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। (ii) জৈব গাস থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ কৃষি যন্ত্রপাতি চালানো, আলো জ্বালানো, জমিতে পাম্পের সাহায্যে জলের সরবরাহ প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা হয়। (iii) জৈব গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদিত গোবর কৃষিক্ষেত্রে সার রূপে ব্যবহৃত হয়।  জৈবগ্যাস শত্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ:  জৈব গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলি হল- • আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র : 2014 খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪.48 বিলিয়ন কিউবিক মিটার জৈব গ্যাস উৎপাদন করে। এই দেশের টেক্সাসে ইথানল গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম গোবর গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ভারমেন্ট-এ।  জার্মানি : 2012 খ্রিস্টাব্দের

বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি

বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তির ধারণা:  বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ব্যবহৃত অপ্রচলিত শক্তিগুলির মধ্যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এই শক্তিটিকে 'Waste Energy' বা 'wte' বলা হয়ে থাকে। এই শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামাল হল-পৌর আবর্জনা, কৃষিজমি থেকে প্রাপ্ত খড়, তুষ, আখের ছিবড়ে প্রভৃতি। বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি উৎপাদন পদ্ধতি:  (a) গ্যাসীয়করণ: এক্ষেত্রে শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে দাহ্য হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদিত হয়। (b) জৈব পদার্থের দহন প্রক্রিয়া: কঠিন পৌর বর্জ্য (Municipal Solid Waste (MSW)]-কে পুড়িয়ে সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড উৎপাদন করে বিদ্যুৎ সৃষ্টি করা হয়। (c) পাইরোলাইসিস: শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে আলকাতরা জাতীয় পদার্থ উৎপাদন করা হয়। (d) অবাত দহনঃ এই পদ্ধতির সাহায্যে মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হয়। (e) পচন পদ্ধতিঃ বর্জ্য পদার্থ পচনের ফলে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইথানলসহ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।  বর্জ্য পুনরাবর্তনীয় শক্তি-প্রধান উৎপাদক দেশসমূহ: OECD (Organisation of Economically Co-operative Count

প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ

প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা (Needs for Conservation of Natural Resources):  মানুষের অবিবেচনামূলক কাজকর্মের ফলে গচ্ছিত সম্পদের ভান্ডার ক্রমাগত নিঃশেষিত হয়ে পড়ছে। দ্রুত হারে সম্পদ ধ্বংসের ফলে ক্রমশ মানব সভ্যতার অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজনীয়তা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও চাহিদা পরিপূরণের উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের অন্যতম প্রয়োজনীয়তাগুলি হল-  (i) ভবিষ্যৎ-এর জন্য সম্পদ সংরক্ষণ : ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পরিপূরণের জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষত গচ্ছিত সম্পদ সংরক্ষণ করা দরকার। (ii)  বর্তমানের চাহিদা পূরণ : গচ্ছিত সম্পদগুলির ভাণ্ডার ক্রমশ নিঃশেষিত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণের জন্য উক্ত সম্পদগুলির সংরক্ষণ প্রয়োজন।  (iii) পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় : নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের ফলে জীবজগতের অস্তিত্ব তথা পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তাই পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।  (iv) পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত