হায়দরাবাদ কীভাবে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?

 সম্রাট ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল দরবারের রাজনীতি ও ষড়যন্ত্র প্রবল হয়ে ওঠে। তুরানি গোষ্ঠীর নেতা চিন কিলিচ খান (মির কামার উদ-দিন খান সিদ্দিকি) মহম্মদ শাহ-কে সম্রাট হতে সাহায্য করেন। কিন্তু দিল্লির রাজনীতিতে বিরক্ত হয়ে তিনি হায়দরাবাদ চলে যান। সেখানে তিনি স্বাধীনভাবে রাজত্ব করতে থাকেন।

হায়দরাবাদ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা :

*মির কামার উদ-দিন খান সিদ্দিকি: মুঘল দরবারে অভিজাত গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম ছিল তুরানি বা চিন গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন মির কামার উদ-দিন খান সিদ্দিকি। সম্রাট ঔরঙ্গজেব তাকে চিন কিলিচ খান, সম্রাট ফাররুখশিয়র তাকে নিজাম-উল-মূলক এবং সম্রাট মহম্মদ শাহ তাকে আসফ ঝা উপাধি দেন। তার কর্মদক্ষতা ও প্রভাবের জন্য তিনি এই উপাধিগুলি লাভ করেছিলেন।

হায়দরাবাদ কীভাবে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?
হায়দরাবাদ কীভাবে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?


* দিল্লির রাজনৈতিক অবস্থা : 

নিজাম-উল-মূলক ফাররুখশিয়রের মৃত্যুর পর (১৭১৯ খ্রি.) সিংহাসন নিয়ে প্রবল দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ষড়যন্ত্র, হত্যাকান্ড ও সন্দেহ এক বিষাক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।


* হায়দরাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা: 

এই অবস্থায় মির কামার উদ-দিন খান সিদ্দিকি দিল্লি ত্যাগ করে হায়দরাবাদ চলে যান। এখানে তিনি একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু এখানকার মুঘল সুবাদার ছিলেন মুবারিজ খান। সম্রাট মহম্মদ শাহের নির্দেশে মুবারিজ খান কামার উদ-দিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন। শকর খেদা-র যুদ্ধে কামার উদ-দিন জয়ী হন। মুবারিজ খান নিহত হন। ফলে সম্রাট মহম্মদ শাহ এক সন্ধির দ্বারা মির কামার উদ-দিন সিদ্দিকি-কে হায়দরাবাদ সুবার শাসক নিযুক্ত করেন। 

স্বাধীন হায়দরাবাদ- নিজাম: 

এইভাবে মির কামার উদ-দিন সিদ্দিকি হায়দরাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার উপাধি হয় নিজাম। তিনি প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, জায়গিরগুলিকে বংশানুক্রমিক করা এবং নতুন কর্মচারী নিয়োগ করার মাধ্যমে প্রচলিত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটান।


মূল্যায়ন:

 দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা না করলেও নিজাম প্রকৃত স্বাধীন শাসকের মতোই ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি মুঘল সম্রাটের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেও স্বাধীন নিজামশাহী হায়দরাবাদ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন, যদিও তিনি মুদ্রা এবং খুতবায় মুঘল সম্রাটের নাম ব্যবহার করতেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ