পরতঃসাধ্য বচন বা বাক্য কী? এর বৈশিষ্ট্যগুলি কী?

পরতঃসাধ্য বচন বা বাক্য


পরতঃসাধ্য বাক্য বা বচনকে অভিজ্ঞতাপ্রসূত বচনরূপেও উল্লেখ করা হয়। পরতঃসাধ্য বচনটির শব্দগত অর্থ হল-যা অভিজ্ঞতার পরে প্রমাণিত, তা-ই হল পরতঃসাধ্য। এখানে 'পরত' শব্দটির দ্বারা বোঝানো হয়েছে অভিজ্ঞতার পরের বিষয়কে এবং 'সাধ্য' শব্দটির দ্বারা বোঝানো হয়েছে প্রমাণিত বিষয়কে। সেকারণেই অভিজ্ঞতার পর বা পরতঃসাধ্য বচনের সংজ্ঞাটিকে নীচের আকারে উপস্থাপিত করা যায়।

সংজ্ঞা: যে বচনের সত্যতা আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে, সেই বচনকেই বলা হয় পরতঃসাধ্য বচন। অর্থাৎ এই ধরনের বচনের সত্যতা জানার একমাত্র মাপকাঠি হল অভিজ্ঞতা। সেকারণেই বলা যায় যে, কোনো বচন পরতঃসাধ্য কি না এবং তার সত্যতা কীরূপ-তা অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই জানা যায়। 
সংশ্লেষকরূপে পরতঃসাধ্য বচন: পরতঃসাধ্য বচনকে আবার

সংশ্লেষকরূপেও উল্লেখ করা হয়। কারণ, পরতঃসাধ্য বচন হল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পাওয়া জ্ঞানের প্রকাশ। অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পাওয়া জ্ঞান আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে নতুন নতুন বিষয়ে সংযুক্ত করে। এই ধরনের বচনপ্রসূত জ্ঞান কোনো কোনো সময় সত্য, আবার কোনো কোনো সময় মিথ্যা হয়। এরূপ জ্ঞান তাই কখনোই অবশ্যিকরূপে গণ্য নয়। এগুলি তাই আপতিক (contingent) রূপে গণ্য।

উদাহরণ:

[1] রাম দেখতে খুবই সুন্দর।

[2] রামের প্রশংসা করলে তার মুখ লজ্জায় লাল হয়।

[3] রহিম পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে।

[4] রহিমের হাঁটাচলা খুবই নাটকীয়।

ব্যাখ্যা: এই সমস্ত উদাহরণের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বচনগুলির সত্যতা কখনোই নিজে নিজে বা স্বতঃভাবে প্রমাণিত হতে পারে না। এদের সত্যতা নির্ভর করে আমাদের ইন্দ্রিয়ানুভবের ওপর। এই সমস্ত বচনে যে জ্ঞান ব্যক্ত হয় তা ইন্দ্রিয়ানুভবের পরেই পাওয়া বলে এগুলিকে পরতঃসাধ্য বচনরূপে গণ্য করা হয়।

পরতঃসাধ্য বচনের লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য


পরতঃসাধ্য বচনের লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

[1] এরূপ বচনের সত্যতা অভিজ্ঞতা তথা ইন্দ্রিয়ানুভবের ওপর নির্ভরশীল।

[2] এরূপ বচনের সত্যতা কখনোই আবশ্যিক নয়।

[3] এরূপ বচনের সত্যতা সবসময়ই আপতিকরূপে গণ্য।

[4] এই ধরনের বচনের বিরুদ্ধ বিষয়ের কথাও ভাবা যায়।

[5] এই ধরনের বচনগুলি সবসময়ই নিত্য নতুন তথ্যজ্ঞাপকরূপে গণ্য।

[6] এই ধরনের বচনগুলি সার্বিক হতে পারে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ