সংশ্লেষক বচন কী তা উদাহরণ-সহ অলোচনা করো। এর লক্ষণগুলি কী?

সংশ্লেষক বচন


যুক্তিবিজ্ঞানে ব্যবহৃত বচনগুলি যেমন বিশ্লেষক হতে পারে, তেমনই সেগুলি আবার সংশ্লেষকরূপেও গণ্য হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে সংশ্লেষক বচন কাকে বলে? সংশ্লেষক বচনের ধারণাটিকে সংজ্ঞার মাধ্যমে উল্লেখ করা যায়।

সংজ্ঞা: যে বচনে উদ্দেশ্যের ধারণাটিকে বিশ্লেষণ করলে বিধেয়ের ধারণাটি পাওয়া সম্ভব নয় এবং বিধেয়টি উদ্দেশ্য সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য প্রদান করে-সেই বচনকেই বলা হয় সংশ্লেষক বচন। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের ধারণাটি বিধেয়ের ধারণার মধ্যে কখনোই নিহিত নয়। সংশ্লেষক বচনের ধারণাটি তাই অবশ্যই নতুন কোনো তথ্যজ্ঞাপকরূপেই গণ্য। আমরা সাধারণত অভিজ্ঞতার সাহায্যেই এরূপ তথ্যকে পেয়ে থাকি।

উদাহরণ:

[1] এই ফুলটি হয় গোলাপি।

[2] মানুষ হয় মরণশীল ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা: এই দুটি উদাহরণের ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, বচন দুটির বিধেয় পদ কখনোই বচন দুটির উদ্দেশ্য পদ থেকে বিশ্লেষণ করে পাওয়া না। এই দুটি পদই আমাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পাওয়া নতুন দুটি তথ্যকে উল্লেখ করে। এই দুটি তথ্য তাই এমন দুটি গুণকে নির্দেশ করে যেগুলি উদ্দেশ্য দুটি থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত নয়। এই বিষয় দুটি হল অভিজ্ঞতালব্ধ নতুন দুটি বিষয়। কারণ, প্রথম উদাহরণটির ক্ষেত্রে গোলাপি নামক বিধেয়ের বিষয়টি উদ্দেশ্য তথা ফুল-এর কোনো অনিবার্য বা আবশ্যিক গুণ নয়। আবার দ্বিতীয় উদাহরণটির ক্ষেত্রে বিধেয় তথা মরণশীল উদ্দেশ্য তথা মানুষ-এর কোনো আবশ্যিক বা অনিবার্য গুণ নয়। এগুলি তাই অবশ্যই অভিজ্ঞতায় পাওয়া নতুন কিছু গুণ।

সংশ্লেষক বচনের অন্য একটি ব্যাখ্যা: অনেকে আবার সংশ্লেষক বচনের অন্য একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এরূপ ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখ করা যায়—যে বচনের অন্তর্গত শব্দের অর্থ বিচার করে বচনটি সত্য কি মিথ্যা বিচার না করে, বচনটির সত্যতা নির্ণয়ের জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, তাকেই বলা হয় সংশ্লেষক বচন। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতা ছাড়া সংশ্লেষক বচনের সত্যতা কখনোই নির্ণয় করা যায় না।
উদাহরণ:

[1] কবিতা এসেছে অথবা ববিতা এসেছে।

[2] মহেশ ক্লাসে প্রথম হয়েছে এবং যোগেশ দ্বিতীয় হয়েছে।

এই দুটি উদাহরণের ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, বচন দুটি অবশ্যই তথ্যজ্ঞাপক। অর্থাৎ এগুলি কিছু বাস্তব তথ্যকে উপস্থাপিত করে। এই তথ্যগুলিকে আমাদের অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রমাণ করা যায়। এগুলি তাই অভিজ্ঞতালব্ধ জাগতিক ব্যাপাররূপে গণ্য, যেগুলিকে আমরা বর্ণনা করি। এই সমস্ত বচনের সত্যতা তাই আমাদের অভিজ্ঞতার ওপরই নির্ভর করে। অভিজ্ঞতায় যদি দেখা যায় যে, বচনে ব্যবহৃত ব্যাপার বা বিষয়গুলি সত্য, তাহলে বচনটি সত্য হয়। আর যদি দেখা যায় যে, সেগুলি মিথ্যা তাহলে বচনটি মিথ্যা হয়।

সংশ্লেষক বচনের লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য


সংশ্লেষক বচনের লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্যগুলিকে যেভাবে উল্লেখ করা যায় তা হল-

[1] বিধেয়ের ধারণাটি উদ্দেশ্যের ধারণা থেকে নিঃসৃত নয়।

[2] বিধেয়ের ধারণাটি হল একটি নতুন ধারণা।

[3] সংশ্লেষক বচনের বিষয়টি অবশ্যই অভিজ্ঞতায় পাওয়া যায়।

[4] এরূপ বচনের সত্যতা মূলত অভিজ্ঞতার ওপরই নির্ভর করে।

[5] সংশ্লেষক বচন সবসময়ই কিছু না-কিছু তথ্যকে জ্ঞাপিত করে।

[6] সংশ্লেষক বচনমাত্রেই সম্ভাব্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ