ভারতের জলপথ পরিবহণ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

জলপথ পরিবহণ : নদী-নালা, খাল-বিল, হ্রদ ও
সমুদ্রে যে পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে জলপথ পরিবহণ ব্যবস্থা বলে। জলপথে যেসকল যানবাহন চলাচল করে, তাদের মধ্যে নৌকা, স্টিমার, লঞ্চ ও জাহাজ উল্লেখযোগ্য। জলপথকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (১) অভ্যন্তরীণ জলপথ ও (২) সমুদ্রপথ।

(১) ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথ (Inland Waterway) :

দেশের অভ্যন্তরভাগে জলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪,১৫০ কিমি। উত্তর ভারতে গঙ্গা, উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্রহ্মপুত্র এবং দক্ষিণ ভারতে গোদাবরী, মহানদী, কৃষ্ণা, কাবেরী, নর্মদা, তাপ্তি, পেন্নার এদের অধিকাংশ উপনদীগুলি পণ্য পরিবহণের উপযোগী। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে গঙ্গার জলধারা বাণিজ্যপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, প্রধানত কৃষিজাত পণ্য চলাচলের জন্যই এই সুনাব্য নদীপথ ব্যবহার করা হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষত আসাম অঞ্চলের চা, কাঠ, বেত এবং অন্যান্য পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্রহ্মপুত্রের অবদান যথেষ্ট। এই নদীপথে ডিব্ৰুগড় পর্যন্ত মাল পরিবহণের সুযোগ আছে। এছাড়া নদী-বদ্বীপ অঞ্চলে জালিকার ন্যায় বিস্তৃত শাখানদীগুলি বরাবর পণ্য চলাচলের ইতিহাস অতি প্রাচীন। তবে নদীতে পলি সঞ্চয়ের প্রকোপে এই নদীপথগুলির নাব্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সুলভ পরিবহণ উপযোগী এই জলপথগুলির সংস্কার ও সংরক্ষণ জরুরি।

(২) ভারতের আন্তর্জাতিক জলপথ ও সমুদ্রপথ (International Waterway): ভারতের উপকূল বরাবর পণ্যদ্রব্য চলাচলের জন্য একাধিক বন্দর গড়ে তোলা হয়েছে। কলকাতা, হলদিয়া, পারাদ্বীপ, বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, কোচিন, মুম্বাই, কান্ডালা প্রভৃতি বড়ো বড়ো বন্দরগুলি ছাড়াও ওখা, পোরবন্দর, সুরাট, মার্মাগাঁও, মাঙ্গালোর, কোজিকোড, কুইলন, ত্রিবান্দম, তুতিকোরিণ, করিকল, পুদুচেরি প্রভৃতি পোতাশ্রয়ের মাধ্যমে কৃষি, খনি, শিল্পজাত পণ্য পরিবাহিত হয়। বৈদেশিক বাণিজ্য তথা পণ্যদ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানি বা বিদেশে রপ্তানির জন্য এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহৃত হয়। ভারতের আন্তর্জাতিক জলপথের জলযানগুলি সরকারী, শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড ও বেসরকারী এসার, ভারতী শিপিং-এর মালিকানাধীন। 
*ভারতের প্রধান প্রধান কয়েকটি সমুদ্র বন্দর: জলপথ পরিবহণ ভারত বিশ্বে সপ্তদশ স্থান অধিকার করে। ভারতে ১৩টিরও বেশি অপ্রধান বন্দর রয়েছে। ভারতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বন্দর হল-(১) অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, (২) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর, (৩) তামিলনাড়ুর তুতিকোরিণ ও চেন্নাই বন্দর, (৪) ওড়িশার পারাদ্বীপ, (৫) মহারাষ্ট্রের মুম্বাই এবং জওহরলাল নেহরু বন্দর, (৬) গুজরাটে কান্ডালা, (৭) গোয়ার মার্মাগাঁও, (৮) কেরলের কোচিন বন্দর ইত্যাদি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ