টীকা লেখো: ট্রাফালগারের যুদ্ধ।

অ্যামিয়েন্সের সন্ধির (১৮০২ খ্রি.) পর ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ (১৮০৫ খ্রি.) সংঘটিত হয়। 

ট্রাফালগারের যুদ্ধের কারণ

ট্রাফালগারের যুদ্ধের বিভিন্ন কারণ ছিল। যেমন-

[1] অ্যামিয়েন্সের সন্ধি: অ্যামিয়েন্সের সন্ধি-এর (১৮০২ খ্রি.) শর্তে মাল্টা দ্বীপ ইংল্যান্ডের ছাড়ার কথা থাকলেও পরে ইংল্যান্ড তা ছাড়তে অস্বীকার করে।
[2] নজরদারি: ইংল্যান্ড মাল্টা দ্বীপ না ছাড়ায় নেপোলিয়নও জার্মানিতে ব্রিটিশ-রাজ্যের সম্পত্তির ওপর সেনার নজরদারি শুরু করে।

[3] ফরাসি জাহাজ আক্রমণ: ইংল্যান্ডের নৌবাহিনী বারবার ফরাসি বাণিজ্য-জাহাজগুলি আক্রমণ করতে থাকে। এর প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন ফ্রান্সে ভ্রমণকারী ১০০০ ইংরেজকে বন্দি করেন।

[4] অপপ্রচার: ইংল্যান্ডের সংবাদপত্রগুলিতে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হয়। ফলে নেপোলিয়ন ক্রুদ্ধ হন এবং উভয় শক্তির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।

[5] ফ্রান্সের নৌশক্তি বৃদ্ধি: সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌযুদ্ধে ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠত্ব ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ফ্রান্স নৌশক্তি বৃদ্ধিতে তৎপর হয়ে ওঠে। ফলে ইংল্যান্ড আতঙ্কিত হয়ে ওঠে।

ট্রাফালগারের যুদ্ধের বিবরণ

[1] নেপোলিয়নের যুদ্ধ-প্রস্তুতি: ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে অ্যামিয়েন্সের সন্ধি (১৮০২ খ্রি.) ভেঙে যাওয়ার পর নেপোলিয়ন বিভিন্ন ঘটনায় ইংল্যান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি সরাসরি ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে ইংল্যান্ড আক্রমণের উদ্দেশ্যে ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরের তীরে ২ লক্ষাধিক সেনা সমাবেশ করেন।

[2] তৃতীয় শক্তিজোট: এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়া, রাশিয়া ও সুইডেনকে নিয়ে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স-বিরোধী তৃতীয় শক্তিজোট গড়ে ওঠে। এই শক্তিজোট ভাঙার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন দ্রুতগতিতে অস্ট্রিয়াকে আক্রমণ করে উল্মের যুদ্ধে (১৮০৫ খ্রি.) পরাজিত করেন।

[3] ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ: নেপোলিয়নের ইংল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ইংরেজ নৌ-সেনাপতি নেলসন ফরাসি নৌ-সেনাপতি ভিলনেউভ-কে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে (২১ অক্টোবর, ১৮০৫ খ্রি.) শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। যুদ্ধে ফরাসি নৌবহর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ